ভোলায় নৌ-বাহিনীর সাথে জেলেদের সংঘর্ষ: ১৫ জেলে আহত

0
166
নৌ-বিহিনী
ফাইল ফটো

ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা ফেরীঘাট এলাকার মেঘনা নদীতে নৌ-বাহিনী সাথে জেলেদের সংঘর্ষ হয়। সোমবারে নৌ-বাহিনী অভিযানে নামলে জেলেদের সঙ্গে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

জেলেদের অভিযোগ, নৌ-বাহিনী কমপক্ষে ১৫ জেলেকে পিটিয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার বরিশাল নৌবাহিনী মেঘনা নদীতে অভিযান শুরু করে।  প্রায় দেড় ঘণ্টায় নৌ-বাহিনী অর্ধ-শতাধিক জেলে নৌকায় অভিযান চালায়। এ সময় সারা বছর নদীতে অবস্থান করা মানতা সম্প্রদায়ের জাল ও নৌকা জব্দ করলে জেলেদের সাথে নৌ সদস্যদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ সময় জেলেরা নৌ-বাহিনীকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।  সদর উপজেলার ইলিশা জংশন এলাকার জেলে জাহের মাঝি, তরিক মাঝি, আবুল হাসেম মাঝিসহ অনেকে জানান, নৌ-বাহিনী নদীতে নেমে অর্ধ-শতাধিক নৌকার জাল, মাছ, মোবাইল জব্দ করে। এ সময়  জাহের মাঝি, তরিক মাঝি, আবুল হাসেম মাঝি, রুবেল মাঝি, আমজাদ মাঝি, আব্বাস মাঝি, হারুন মাঝি, আবুল কালাম মাঝিসহ ১৫ নৌকার জেলেকে পিটিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। পরে জেলেরা সাঁতরে কুলে ওঠে।

জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, তারা পেটের দায়ে মাছ ধরতে নেমেছে। তাদের নামে বরাদ্দকৃত চাল এপ্রিল মাস শেষ হয়ে গেলেও চেয়ারম্যানরা তা বিতরণ করছে না।

মাছ না ধরতে পেরে জেলেদের সন্তানরা  না খেয়ে উপোষ দিন কাটাচ্ছে। এ অভাব সহ্য করতে না পেরে তারা নদীতে নেমেছে।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের অভিযান কর্মকর্তা (অপারেশন অফিসার) লে, রাকিব উল-হাসান ও ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) বরকত সাংবাদিকদের নিকট মেঘনায় নৌ বাহিনীর অভিযান ও জেলেদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ভোলা জেলা মৎস্য অফিস সুত্র জানায়, জাটকা সংরক্ষণ মৌসুম ৮মাস(নভেম্বর-জুন)। এরমধ্যে ২ মাস (মার্চ-এপ্রিল) মেঘনা তেতুলিয়া নদীতে একদম জাল ফেলা নিষিদ্ধ; কোন প্রকার জাল নদীতে ফেলা যাবেনা; ইলিশ শিকার, ক্রয়-বিক্রয় ও বহন একদম নিষিদ্ধ। এ সময় সরকারি হিসাব মতে, ৮৮হাজার ১১২ বেকার জেলে পরিবারের মধ্যে ৫২হাজার ১৫০টি পরিবারকে সরকার ৪মাস(মার্চ-জুন) ৪ কেজি করে ১৬০ কেজি চাল ৪কিস্তিতে প্রদান করবে। ভোলা সদর উপজেলার ৯হাজার ৯৭৮জন জেলে এ সুবিধার আওতায় আসবে। প্রত্যেক উপজেলায় চাল এসে গেছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেন চাল বিতরণ করেনি তা বলতে পারবোনা।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আরিফ বলেন, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চালের উত্তোলন আদেশ  (ডিও) হয়ে গেছে, কিন্তু চেয়ারম্যানেরা অলসতা করে চাল তুলছেনা।

পিএম/সাকি