চট্টগ্রামে ৫৩ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা!

0
236

তাপমাত্রামাথার উপর সূর্য যেন জলন্ত চুল্লি, পায়ের নিচে পথটি যেন তপ্ত কড়াই। আর বাতাস মানেই আগুনের ঝাপটা। এমন তীব্র তাপদাহে পুড়ছে চট্টগ্রাম। আর গত কয়েকদিন ধরে এই তীব্রতা যেন বেড়েই  চলেছে। আবহাওয়া অফিসের হিসাবেও মিলছে এই নরক যন্ত্রণার প্রমাণ। মঙ্গলবার চট্টগ্রামে গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গত সাতদিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া নগরীর আম বাগানে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৪০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত ৫৩ বছরের মধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামের যে কোন এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে , এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১৯৬১ সালে ১১ এপ্রিল। সেদিন চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৬১ সালের পর দ্বিতীয় রেকর্ড হয়েছিল ২০০১ সালের ৬ এপ্রিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গত সোমবার ৫৩  বছর পর নগরীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে এ রেকর্ড স্থায়ী হলো না একদিনের বেশী। আজ মঙ্গলবার রেকর্ড হয়েছে ৩৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপাত্ত মতে, দেশের  ৩৪ স্টেশনের মধ্যে ২৯ টি স্টেশনেই সবোর্চ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে। এর মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে এমন প্রথম সাতটি স্থানই চট্টগ্রাম ও তার আশপাশ এলাকার।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশের তুলনায় চট্টগ্রামের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন পর্যন্ত থাকতে পারে ।

গত শুক্রবার চট্টগ্রামের তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শনিবার ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রোববার ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সোমবার ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও মঙ্গলবার ৩৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ যেন তাপমাত্রা বাড়ানোর মহোৎসব।

বাতাসের আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা বেশি থাকায় নগরবাসীর বেহাল অবস্থা। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আর্দ্রতার পরিমাণ অস্বাভাবিক। এতে দিনে এবং রাতে সমান তালে অসহনীয় গরম। বিশেষ করে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারে নাভিশ্বাস ওঠার মতো গরম অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসেই বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে ঘূর্ণিঝড়। ইতোমধ্যেই দেশের মধ্যঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বইছে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি পর্যন্ত এর বিস্তৃতি ঘটেছে।

এদিকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর নিয়ে গবেষণারত আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোও আগামি মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার আচরণ অস্বাভাবিক থাকবে বলে পূর্বাভাস জানিয়েছিল।

জলবায়ূ ও আবহাওয়া গবেষক ম. আবদুর রহমান রানা অর্থসূচককে বলেন, এপ্রিলের চেয়েও মে মাসে আরও মারাত্মক গরম পড়তে পারে। এটি দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ছাড়াও উত্তর-পূর্ব এবং মধ্যঞ্চলে বিস্তৃত হতে পারে। এইসময়ে অন্তত তিনটি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে। এ সব এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী ছাড়িয়ে যাবে। এ ছাড়া সারাদেশে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রী তাপমাত্রার মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে।

গরমের পাশাপাশি বিদ্যুতিক লোডশিডিং গরমের  অনুভবকে বাড়িয়ে দিয়েছে আরো বহুগুণ। প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ২৭৫ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় অসহনীয় মাত্রা মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।