ই-বর্জ্য পুর্নব্যবহারের পরিকল্পনা

অর্থসূচক ডেস্ক

0
72

ই-বর্জ্য থেকে মূল্যবান ধাতু উদ্ধার করে তা পুনর্ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে উপযুক্ত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। প্রকল্পটির আওতায় হালকা ও মাঝারি প্রকৌশল খাত হবে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ‘লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের উন্নয়ন ও ই-ওয়েস্ট প্রক্রিয়াকরণের সুবিধাদি সৃষ্টি’ বিষয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ খাতের ৪০ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সুবিধাভোগী হবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল মার্চেন্ডাইস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইএমএমএ) সূত্রমতে, প্রতি বছর দেশে ৩২ কোটি টন ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবহৃত হয়। তবে এসব পণ্যের মাত্র ২০-৩০ শতাংশ রি-সাইকেল বা পুনর্ব্যবহার উপযোগী করা হয়। আর বাকিটা অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভেঙে ফেলা হয় অথবা ফেলে দেয়া হয়। দেশে কম্পিউটার, সেলফোন, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ফটোকপি, ওয়াশিং মেশিন, এয়ারকন্ডিশন, ডিভিডি প্লেয়ার, সিএসএফ বাল্ব প্রভৃতি ইলেকট্রনিক পণ্য অধিক পরিমাণে ব্যবহূত হয়। এসব ইলেকট্রনিক পণ্যে এক হাজারেরও বেশি ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য থাকে। এসবের মধ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক লেড, মার্কারি, জিংক, ক্রোমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, বেরিল্লিয়ামসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত বিপুল ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা না হলে তা পরিবেশের ওপর মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে।
কারণ ই-বর্জ্য ভারী ধাতু বহন করে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈজ্ঞানিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা হতে পারে আরো ভয়ংকর। ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, গৃহস্থালি পণ্যে থাকা ই-বর্জ্যের ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি। অপচনশীল এসব বর্জ্যের ধাতু এবং রাসায়নিক মাটির গুণাগুণ নষ্ট করে। এসবের প্রভাবে মানবদেহে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন সমস্যা এবং মস্তিষ্ক ও রক্তনালির বিভিন্ন রোগ হতে পারে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সঠিকভাবে ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করলে তা মেটাল ও অ্যালয়ের ভালো উৎস হতে পারে। যেমন কম্পিউটার হার্ডডিস্কের অন্যতম উপাদান অ্যালুমিনিয়াম ও স্টেইনলেস স্টিল। তাই হার্ডডিস্ক হতে পারে এ দুটি উপাদানের ভালো উৎস। ড্রাইসেল ব্যাটারিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ জিংক পাওয়া যায়, যা জিংকের ভালো একটি উৎস হতে পারে। মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ও ল্যাপটপে লিথিয়াম আয়ন প্রচুর পরিমাণে ব্যবহূত হয়। এগুলো থেকে লিথিয়াম সল্ট প্রস্তুত করা সম্ভব।

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তিন কোটি মোবাইল সেট আমদানি করা হয়। এসব সেটের প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ডের (পিসিবি) জন্য সঠিক রি-সাইক্লিং প্রক্রিয়ার উন্নয়ন করা গেলে উচ্চমূল্যের ধাতব বস্তু বের করে আনা সম্ভব।

সাম্প্রতিক একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বিসিএসআইআর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের ই-বর্জ্যে থাকা পদার্থের মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো, টাকার অংকে যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৪০০ কোটি। শহরে ধাতব ব্যবস্থাপনা বা আরবান মাইনিংয়ে মাধ্যমে মূল্যবান বস্তু আহরণ ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব। বর্তমানে ব্যক্তি উদ্যোগে স্বল্প আকারে ই-বর্জ্য সংগ্রহ, চূর্ণীকরণ ও বাছাই করা হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় গবেষণার অভাবে ব্যাপক আকারে মূল্য সংযোজন করা যাচ্ছে না। ফলে বাছাই করা বর্জ্য নামমাত্র মূল্যে সিঙ্গাপুর, চীন ও ভারতে রফতানি হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রকল্পটির আওতায় ই-বর্জ্য নিয়ে গবেষণাগার স্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ভারী শিল্পাঞ্চল চট্টগ্রামে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেবাকেন্দ্র এবং ই-বর্জ্যের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যকেন্দ্র ঢাকায় দুটি গবেষণাগার স্থাপন করা হবে। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পকেট অফিস স্থাপন করা হবে রাজশাহী, জয়পুরহাট ও সাভারে। এর মধ্য দিয়ে বৃহৎ ও ক্ষুদ্র শিল্প কারখানার মধ্যে সংযোগ স্থাপন, পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে।

অর্থসূচক/টিটি