সেজান প্রাণ স্টারশিপ ফ্রুটিকাসহ ১১ ফ্রুট ড্রিংকসে ক্ষতিকর রাসায়নিক

অর্থসূচক ডেস্ক

0
324
fruit-drinks

দেশের বাজারে জনপ্রিয় সেজান ম্যাংগো ড্রিংকস, স্টারশিপ ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংকস ও প্রাণ ফ্রুটোসহ ১১ ব্র্যান্ডের ফ্রুট ড্রিংকসে  ‘সোডিয়াম সাইক্লামেট (Sodium cyclamate) ’ নামের কেমিক্যাল পাওয়া গেছে। এই রাসায়নিকটি মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এসব ফ্রুট ড্রিংকসের কয়েকটিতে সাইক্লামেটের পাশাপাশি আরও কিছু ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার এবং ফার্মেসি অনুষদের বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে পরিচালিত খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ফার্মেসি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের একদল শিক্ষক সম্প্রতি বাংলাদেশের বাজার থেকে কিছু খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোর গুণগত মান পরীক্ষা করেন। আর তাতে ফ্রুট ড্রিংকসসহ বিভিন্ন পণ্যের অনেক নমুনায় ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

fruit-drinks

তথ্যমতে, দেশের ১১ টি ফ্রুট ড্রিংকসের নমুনা নিয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনের (বিএসটিআই) স্ট্যান্ডার্ডের শর্ত পূরণ করে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়েছে। যেসব নামের নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয় সেগুলো হচ্ছে- স্টারশিপ ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংকস, সেজান ম্যাংগো ড্রিংক, প্রাণ ফ্রুটো, অরেনজি, প্রাণ জুনিয়র ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক, লিটল ফ্রুটিকা ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক, সানড্রপ, চাবা রেড এপল, সানভাইটাল নেকটার ডি ম্যাংগো, লোটে সুইটেন্ড এপল ড্রিংক এবং ট্রপিকানা টুইস্টার। আর এসব পণ্যে বিএসটিআই নিষিদ্ধ সাইক্লোমেটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী, ফ্রুট ড্রিংকসে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে নিষিদ্ধ কৃত্রিম মিষ্টিকারক সাইক্লামেট ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু ঢাবি’র বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার এবং ফার্মেসি অনুষদের বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে পরিচালিত পরীক্ষায় ১১টি নমুনার সবগুলোতেই এই সাইক্লামেটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যার সীমা ছিল প্রতি মিলিতে ১৩৮ দশমিক ৯৪ থেকে ২৬৬ দশমিক ৪২ মাইক্রোগ্রাম। আলোচ্য নমুনাগুলো মানের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাইক্লামেট চিনির চেয়ে ৩০-৫০ গুন বেশি মিষ্টি হয়ে থাকে। যা কৃত্রিম মিষ্টি তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় সাইক্লামেটের সঙ্গে সেকারিনও ব্যবহার করা হয় থাকে। সাইক্লামেটের ব্যবহার আমাদের দেশসহ আমেরিকায়ও নিষিদ্ধ। আর এই নিষিদ্ধ রাসায়নিকই পাওয়া গেছে দেশের ১১ টি ফ্রুট ড্রিংকসে।

এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক এবং বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক অর্থসূচককে বলেন, আমরা প্রায় সময়ই বিভিন্ন পণ্য নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে থাকি। সব সময় তা পত্রপত্রিকায় আসে না। তবে এবারের যেসব বিষয়গুলো পাওয়া গেছে তা মানবদেহের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আর তাই আমরা এ পরীক্ষার ফলাফল গণমাধ্যমের দিয়েছি। পত্রিকার খবরের মাধ্যমে জনগণ সচেতন হবে। অপরদিকে যদি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এসব পরীক্ষার ফলাফল চায় তাহলে আমরা তাদেরকে দিয়ে সহযোগিতা করবো।

জানা গেছে, বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ফ্রুট ড্রিংকসে টোটাল প্লেট কাউন্ট থাকতে পারে সর্বোচ্চ ৫০টি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার এবং ফার্মেসি অনুষদের বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে পরিচালিত খাদ্যের গুণগত মান বিশ্লেষণে ফলাফলে আলোচিত ১১টির ফ্রুট ডিংকসের মধ্যে ৭টি নমুনায় এই সীমা ছিল ১০০ থেকে ৩০০টি। অর্থাৎ এই ৭টি ফ্রুট ড্রিংকসই বিএসটিআইর মান রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এছাড়া বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ফ্রুট ড্রিংকসে কোনো কলিফর্ম কাউন্ট থাকবে না। কিন্তু প্রাপ্ত পরীক্ষায় ১১টির মধ্যে ৩টি নমুনায় এই উপস্থিতি ছিল ১০০টি। অর্থাৎ এই ৩টি নমুনা বিএসটিআই মান রক্ষা করতে পারেনি।

এদিকে, জনসচেতনতায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার কথা থাকলেও তা অনিবার্য কারণে স্থগিত করেছে ঢাবি বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার এবং ফার্মেসি অনুষদ।

উল্লেখ্য, দেশে বাজারে প্রচলিত ৭ টি প্যাকেটজাত দুধের নমুনায় মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে একই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পাস্তুরিত দুধের সতটি নমুনা হলো- মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, প্রাণ, ইগলু, ইগলু চকোলেট ও ইগলু ম্যাংগো। যা গতকাল আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের মোকাররম ভবনের পাশে বিজ্ঞান গ্রন্থাগারে অবস্থিত ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। ফ্রুট ডিংকস ছাড়াও বেশ কিছু পণ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, ঘি, গুঁড়া মশলা, শুকনা মরিচ, হলুদ, পাম অয়েল।