বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেল খোলাবাজারে, গোডাউন সিলগালা

0
78
electricity oil

electricity oilবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা জ্বালানি তেল খোলাবাজারে বিক্রর করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্লান্টের বিরুদ্ধে। আর এ অভিযোগে রোববার একটি বেসরকারি গোডাউন সিলগালা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানি করা সংক্রান্ত বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকসহ একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে তেল আমদানির অনুমতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এ তেল আমদানি করে থাকে। আর তা পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সারাদেশে সরবরাহ করে। তেল পাচার, মূল্য কারসাজিসহ নানা আশংকায় বিপিসি বেসরকারি খাতে তেল আমদানির অনুমতির বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। চট্টগ্রামে খোলা বাজারে বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেল বিক্রির ঘটনা বিপিসির আশংকাকেই জোরালো করে তুলেছে।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেল বাইরে বিক্রি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নামে আমদানি করে বেসরকারি গোডাউনে রেখে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান।

এ ধরনের কিছু অভিযোগ আছে হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্লান্টের বিরুদ্ধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে থাকায় নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় একটি গোডাউনে সিলাগালা করা হয়।
বিদ্যুৎ প্লান্টে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা এসব তেল সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা এবং শুল্ক কর পরিশোধের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। একই বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকেও (পিডিবি) চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের একজন সহকারী পরিচালক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা একটি বেসরকারি গোডাউন পরিদর্শন করে তা সিলগালা করে দেন। জানা গেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারি ১শ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্টের জন্য পিডিবির নামে ১ হাজার ৫শ ড্রাম উন্নত মানের ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হয়। এরমধ্যে ৯শ ড্রাম ফার্নেস অয়েল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়। এরপর সরকারি একটি সংস্থার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ অনুসন্ধানে নেমে পিডিবির নামে আমদানি করা ফার্নেস অয়েল একটি বেসরকারি গোডাউনে রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়।এরপরই কর্মকর্তারা গোডাউনটি সিলগালা করে।

সংশ্লিষ্টদের আশংকা অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।