কুমিল্লায় সংখ্যালঘু পরিবারে হামলা, অগ্রগতি নেই মামলার তদন্তে

0
100

বরুড়াকুমিল্লার বরুড়া উপজেলার খোশবাস ইউনিয়নের সুরিচৌঁ গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই মামলার। স্থানীয় কিছু বখাটে যুবকের হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের ধরতে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী বলেন, আমাদের এলাকায় হামলার ঘটনায় আমরা এখনো কোনো ইতিবাচক ফলাফল পাইনি। হামলায় জড়িত ৩ জনকে প্রধান আসামি করে আরও অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের নামে থানায় মামলা করা হলেও প্রশাসনকে এই ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। ঘটনার দিন স্থানীয় জনতা মিলে কুদ্দুসকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি। তাদের দাবি, পুলিশকে আসামি ধরতে একবারও অভিযানে আসতে দেখা যায়নি। থানা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে অবহেলা করছেন, এড়িয়ে চলছেন।

তারা আরও বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় মামলা করায় বিভিন্ন মহল থেকে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাড়াতাড়ি সমঝোতায় না গেলে আসামিপক্ষও উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের মধ্যে এখন এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে আবারও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

এই ব্যাপারে বরুড়া থানার ওসি এ কে এম কাওসার চৌধুরী বলেন, হামলার ঘটনায় ৩ জনকে প্রধান আসামি করে আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের নামে থানায় মামলা করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোপূর্বে আসামিদের ধরতে কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিরা এখন এলাকায় নেই। তারা গা ঢাকা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পার্শ্ববর্তী গ্রামের ওয়াসিম ও কুদ্দুস নামে দুই যুবক ননী গোপাল হালদারের ঘরের জানালা দিয়ে মহিলাদের লক্ষ্য করে সিগারেটের ফুলকি ছুড়ে মারে। এ নিয়ে বাড়ির লোকজনের সাথে তাদের বাক-বিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। পরে ঐ দুই যুবক ফিরে গিয়ে ২০-২৫ জনের একটি দল সঙ্গে নিয়ে ননী গোপাল হালদারের বাড়িতে ভাংচুর চালায়। এ সময় তাদের হামলায় অন্তত ৫ জন আহত হয়।