সড়ক নিরাপত্তায় বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
38

সড়কে শৃঙ্খলা না মানার অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো আইন না মানার প্রবণতা। ফলে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানামুখী তৎপরতা দেখা গেলেও বাজেটে তার কোন প্রতিফলন হয় না। তাই এবারের বাজেটে একটি অর্থনৈতিক কোড চালুসহ বিভিন্ন দাবির পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ৫ম বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ উপলক্ষে ‘নিরাপদ সড়ক: আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ কার্যক্রমের জন্য অর্থনৈতিক কোন কোড নেই। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালক প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, আক্রান্তদের উদ্ধার, চিকিৎস্যা সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্থদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য এ দাবি জানানো হয়েছে।

মূল প্রবন্ধে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাপী সড়ক নিরাপত্তা এখন প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে প্রতিবছর সারা বিশ্বে ১.২ মিলিয়ন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আহত হয় ২০ থেকে ৫০ মিলিয়ন। সংস্থাটি হিসাব মতে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক বেশি। আর লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হচ্ছে সারা বিশ্বের নিবন্ধিত যানবাহনের মাত্র ৪৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার দায় কাঁধে নিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত চার থেকে পাঁচ দশক ধরে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরিমাণ হ্রাস পেলেও এসব দেশে এখনো সড়ক দুর্ঘটনায মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২১ হাজার ৩১৬ জন। ২০১৬ সালে ২৪ হাজার ৯৫৪ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে তিন হাজার ৬৩৮ জন।

সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করে গাড়ির গতিসীমার উপর। আমাদের জাতীয় মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানের নয়। সেই হিসেবে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানোর সুযোগ সুবিধা থাকলেও চালানো হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগে। ফলে প্রাণহানি ও সম্পদহানি বেশি হচ্ছে। গতির কারণে সংঘর্ষে গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে প্রাণহানির ভয়াবহতা বাড়ছে। জাতিসংঘ নির্দেশিত লক্ষ্য অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সড়ক নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে সকল জাতীয় মহাসড়কে আলাদা সার্ভিস রোড তৈরির দাবি জানানো হয়।

আলোচনা সভায় বিআরটিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয় বা নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু জবাবদিহির জায়গাটি নিশ্চিত করা হয় না। আমাদের এখানে যারা নীতিনির্ধারণ করেন, তারাই আবার মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি। জবাবদিহির ব্যাপারে যে অনাগ্রহ রয়েছে, এর মূলে রয়েছে এই স্বার্থের সংঘাত।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। সড়ক পরিবহন আইন ২০১১ সালে প্রণয়ন করা হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। আইসিটি আইন প্রণয়ন করা গেলে এটি কেন করা যাবে না বলেও উল্লেখ করে তিনি।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক সিগনাল চালুর আহ্বান জানিয়ে যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল বলেন, ট্রাফিক সিগনাল চালু থাকলে পথচারীরা সচেতন থাকেন এবং আশ্বস্ত থাকেন কিছুক্ষণ পরে গাড়ি চলবে। কিন্তু আমাদের সড়কে সেটা করতেই পারিনি।

অর্থসূচক/এমআরএম/কেএসআর