সপ্তাহজুড়ে ১১ কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা

0
92
dividend
লভ্যাংশ

dividendসপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ১১ কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছর ৩১ ডিসেম্বর ২০১৩ সালের জন্য এই লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক-বিমা, আর্থিক খাতসহ অন্যান্য খাতের  কোম্পানি রয়েছে।

ব্যাংক খাতের মধ্যে রয়েছে, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটডে, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড এবং এক্সিম ব্যাংক লিমটেড। আর্থিক খাতের মধ্যে রয়েছে, বিডি ফিন্যান্স  লিমিটেড, ইসলামিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স । বিমা খাতের তাকাফুল ইসলামী ইনস্যুরেন্স, প্রভাতি লাইফ ইনস্যুরেন্স ও প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স।

এছাড়া ওষুধ ও রসায়ন খাতের ইবনে সিনা এবং বিবিধ খাতের বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন গত সপ্তাহে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

ব্যাংক খাত:

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি  শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক  লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই বোনাস লভ্যাংশ।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে  ১টাকা ৯৬ পয়সা। আগামি ২৯ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ৪ মে।

২০১২ সালে ব্যাংকটি ২০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই ব্যাংক ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমান পিই রেশিও রয়েছে ৮ দশমিক ৯৪।

এক্সিম ব্যাংকের  পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই বোনাস। সমাপ্ত বছরে ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা।

আগামি  ২৬ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে  ২৭ এপ্রিল।

২০১২ সালে এই ব্যাংকের শেযারহোল্ডারদেরকে ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেষে শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস করেছিল ১ টাকা ৯৮ পয়সা।

এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ১ দশমিক ৭৭ টাকা। এর শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১৬ দশমিক ২৯ টাকা।

আগামি ১৮ মে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ এপ্রিল।

২০১২ সালে এই ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদেরকে ১৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেষে শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ২ টাকা ৭৩ পয়সা। একই বছরে নয় মাসে শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা।

‘এ’ ক্যাটাগরির এই ব্যাংকটি ২০০৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমান মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও রয়েছে ১২ দশমিক ১৮।

বিমা খাত:

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি প্রভাতী ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই বোনাস।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮৩ পয়সা। আগামি ২২ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ৪ মে।

২০১২ সালে কোম্পানিটি ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমান পিই রেশিও রয়েছে ১৩ দশমিক ৩।

সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই বোনাস লভ্যাংশ।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৩ পয়সা। আগামি ২৪ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ২৯ এপ্রিল।

২০১২ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমান পিই রেশিও রয়েছে  ১২ দশমিক ২৮ পয়েন্ট।

এ খাতের  তাকাফুল ইসলামী ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের  পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই বোনাস।

সমাপ্ত বছরে ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ২৮ পয়সা। আগামি  ৩১ মে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে  ২৮ এপ্রিল।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বোনাস  লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেয়ার প্রতি আয়  করেছিল ১ টাকা ৭৫ পয়সা।

‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমান পিই রেশিও রয়েছে ১৩ দশমিক ৩।

র্থিক খাত:

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি বিডি ফিন্যান্স  লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ  বোনাস  লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৩ পয়সা। আর কোম্পানির কনসোলিডেট ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা। শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য বা এনএভি হয়েছে ১৪ টাকা ৮৮ পয়সা।

আগামি ১৪ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ১২ মে।

২০১২ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস  লভ্যাংশ দিয়েছিল। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

এ খাতের কোম্পানি ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ এবং ৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৭৭ পয়সা। আগামি ২৮ মে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ২৮ এপ্রিল।

২০১২ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস  লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেয়ার প্রতি লোকসান  করেছিল ৫৯ পয়সা। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

এছাড়া আর্থিক খাতের কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির কনসোলিটেড শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ৬৮ পয়সা। আগামি ২৯ মে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে  ৩০ এপ্রিল।

২০১২ সালে কোম্পানিটি ৫ শতাংশ নগদ  লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেয়ার প্রতি লোকসান  করেছিল ২৬ পয়সা। ‘বি’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ।

আলোচিত বছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে (ইপিএস) ১ টাকা ৯৭ পয়সা। আগামি ২৩ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ এপ্রিল।

২০১২ সালে বিএসসি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস করেছিল ১ টাকা ৭৭ পয়সা।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস  ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ বোনাস এবং ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ।

সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪ টাকা ৪৮ পয়সা। আগামি  ৭ জুন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে  ৩০ এপ্রিল।

২০১২ সালেও কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদেরকে ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ ছিল নগদ, বাকি ২০ শতাংশ বোনাস। ওই বছর শেয়ার প্রতি আয় করেছিল ৪ টাকা ১৩ পয়সা।

এসএ/ এআর