জলবায়ু পরিবর্তনে নষ্ট হচ্ছে মাছের মস্তিষ্ক শক্তি

0
181

fishজলবায়ু পরিবর্তনসহ বিশ্বব্যাপী নানামুখী পরিবেশ বিপর্যয়ের ক্ষতিকর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সাগর থেকে নানা প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন,  বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানিতে অম্লতার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে,  যা জলজ প্রাণী ও মাছের মস্তিস্কের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে সাগরে নানা প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিজ্ঞানী ল্যাবরেটরীতে সমুদ্রের পানির ওপর গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশ্বে প্রতিনিয়তই উৎপন্ন হচ্ছে কার্বন ডাই অক্সাইড। আর তা সমুদ্রের পানির সাথে মিশছে। এর ফলে পানির পিএইচ মান আরও কমে যাচ্ছে। আর এতে করে সমুদ্রে যে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে তারা আগের পরিবেশের সাথে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারছে না।  যা প্রভাব ফেলছে তাদের মস্তিস্কের স্নায়ুতে। ফলে মাছের মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, দেখা দিচ্ছে স্নায়ুতান্ত্রিক বিভিন্ন অসুস্থতা। একসময় প্রাণ দিচ্ছে এসব প্রজাতিরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ রকমভাবে জলবায়ূ পরিবর্তন হতে থাকলে একদিন পৃথিবী থেকে মাছও বিদায় নিতে কুণ্ঠাবোধ করবে না।

গবেষক দলের প্রধান মুখপাত্র আটলান্টার জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সহকারী অধ্যাপক ড্যানিয়েল ডিক্সন জানান, গবেষণাটি অ্যাডভ্যান্স অনলাইন পাবলিকেশনের এক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, সমুদ্রের পানির স্বাভাবিক পিএইস মান থাকে ৮. ১৪ মাত্রায় যা বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অস্তিত্ত্ব রক্ষার জন্য উপযুক্ত। কিন্তু দিন দিন বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই পিএইচ মান কমে যাচ্ছে। তিনি জানান, পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বর্তমানে সমুদ্রের পানির গড় পিএইচমান ৭.৭ মাত্রা।

ডিক্সন বলেন, মাছেরা গন্ধ নিতে পারে ঠিকই তবে ক্ষতিকর কেমিক্যালের মধ্য কোনো পার্থক্য বুঝতে পারে না। ফলে তাদের মস্তিস্কে স্বভাবতই প্রবেশ করছে ক্ষতিকর গ্যাস। যার ফলে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে অসংখ্য সামুদ্রিক মাছ। এমনকি বিলীন হচ্ছে তাদের অস্তিত্ব।

এর আগে সেন্ট এন্ড্রিউজ বিশববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক লুক রেণ্ডেল বলেন, মাছেরা এক জায়গায় স্থির থাকতে পছন্দ করে না। তারা কয়েকদিন পর পর বাসস্থান পরিবর্তন করে। কিন্তু সমুদ্র দূষণের ফলে মাছের প্রজাতির সংখ্যা দিন দিন  কমছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাছের বসবাসের উপযোগী করে সমুদ্রকে কীভাবে শান্ত আর তুলনামূলকভাবে নীরব রাখা যায় তা নিয়ে বোস্টনের বিজ্ঞানীরা নানা উপায় খুঁজে চলেছেন। কেন না সমুদ্রে যেসব বড় বড় জাহাজ চলাচল করে, সেগুলো থেকে যে শব্দদূষণ হয় তা বড় বড় মাছসহ অন্যান্য মাছ প্রজাতির নিজেদের মধ্যে যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায়। আর একারণে তাদের খাবারের খোঁজ করাও বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এস রহমান/