চিহ্ন দেখেই যাচাই করুন সত্য-মিথ্যা

0
103
lier

lierময়ে-অসময়ে, কারণে-অকারণে মানুষ মিথ্যা বলে। কখনও জান বাঁচাতে, আবার কখনও মজা করার জন্য মানুষ মিথ্যা বলে। এতে করে কোনো কোনো পরিস্থিতি থেকে সে বাঁচলেও, অনেক সময় পড়ে যায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। শুধু সে নিজে নয়, মিথ্যা বলে আপনাকেও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে সে। কাজেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ার আগেই কিছু চিহ্ন দেখেই ধরে ফেলুন মিথ্যা।

তাই অর্থসূচকের পক্ষ থেকে এবারের আয়োজন সত্য না মিথ্যা যাচাই করার কিছু চিহ্ন :

১. মিথ্যা ধরার প্রথম উপায়ই হল যে কথা বলছে প্রথমেই তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ লক্ষ করা। কারণ যিনি মিথ্যা বলবেন তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে সত্যবাদী লোকের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কখনোই মিলবে না। মিথ্যা বলার সময়ে সে অনেক সময়ই আমতা আমতা করে কথা বলে। এমনকি তার মুভমেন্টও কমে আসবে অনেকটাই। এককথায়, তার মাঝে স্বতস্ফূর্তভাব অনেকটাই কমে আসবে।

২. মিথ্যাবাদী ব্যক্তি কখনই চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলে না। কাজেই আপনাকে যিনি মিথ্যা বলছেন তিনি  সরাসরি চোখের দিকে তাকাবেন না। আবার কখনও কখনও মিথ্যা কথার ভূমিকা অপ্রয়োজনীয়ভাবেই দীর্ঘ হয়ে থাকে। এটা দেখেও মিথ্যাবাদীকে সনাক্ত করা সহজ হয়।

৩. আবার কখনও মিথ্যা বলার সময় মিথ্যাবাদীর মধ্যে অস্থিরতা লক্ষ করা যায়। অনেক সময় সে ঘামতে শুরু করে। আবার কখনো কখনো তাকে মাথা বা কানের পেছনও চুলকাতে দেখা যায়। নিজের অজান্তেই শরীরের এই চিহ্নগুলোই মিথ্যা বলার তথ্য জানিয়ে দেয়।

৪. মিথ্যা বলার সময় অনেক সময় আবেগের বহিঃপ্রকাশে কম বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে আবেগের ব্যাপ্তিকাল সাধারণের থেকে বেশি সময় স্থায়ী হলে এবং হঠাৎ করেই এই আবেগ শেষ হয়ে গেলে বুঝতে হবে ব্যক্তিটির কথা মিথ্যা হবার সম্ভাবনা বেশি।

৫. কারও কোনো কথার সাথেও যদি তার আবেগের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া না যায় তাহলেও বুঝতে হবে সে মিথ্যা বলছে।

৬. মিথ্যাবাদী ব্যক্তি মিথ্যা বলার সময় কথায় কথায় রেগে যেতে পারেন, এমনকি ঝগড়াও করতে পারেন। সেখানে একজন সত্যবাদী ব্যক্তি কথা বলার সময় অনেক শান্ত থাকেন।

৭. মিথ্যাবাদীর সাধারণ কথার সুর ও মিথ্যা কথার সুরের মাঝে অবশ্যই পার্থক্য থাকবে। অনেকসময় মিথ্যা বলার সময় তারা অনেক সুন্দর করে কথা বলে, আবার কখনও তাদের সরাসরি মিথ্যা না বলে ঘুরিয়ে মিথ্যা বলতে দেখা যায়।

৮. মিথ্যাবাদী ব্যক্তি যে বিষয়ে মিথ্যা বলছেন তা বদলে গেলে বেশ শান্ত হয়ে যাবেন। সেই সাথে তাদের গলার আওয়াজও মজবুত শোনাবে। অন্যদিকে যিনি সত্য বলছেন তিনি হঠাৎ বিষয় বদলে গেলে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে যাবেন এবং আগের বিষয়ে ফিরতে চেষ্টা করবেন।

৯. তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মিথ্যাবাদীরা প্রশ্নকর্তাকে ভয় পেয়ে থাকেন। কারণ প্রশ্নকর্তা বেশি প্রশ্ন করলে তার মিথ্যা ফাঁস হওয়ার একটা বড় সম্ভাবনা থাকে। ফলে বেশির ভাগ সময়ই সে প্রশ্নকর্তাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এএসএ/