ভবন সংস্কারের সময় বেতন পাবে শ্রমিকরা

0
32

tosharপোশাক শিল্পের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে গিয়ে এ শিল্পের  ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারের সময় কারখানা বন্ধ থাকলেও বেতন পাবেন শ্রমিকরা। তবে এ ক্ষেত্রে দুই মাসের বেতন দেওয়া হবে তাদের। যার অর্ধেক অ্যালায়েন্স ও বাকী অর্ধেক  মালিকপক্ষ দেবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার সেফটি (অ্যালায়েন্স) এর পক্ষ থেকে এ ঘোষনা দেওয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, ব্র্যাকের উপদেষ্টা রুমি আলী, শ্রম উপদেষ্টা ওয়াজেদ ইসলাম, শ্রমিক নেতা শুকর মাহমুদ ও সিরাজুল ইসলাম রনি-সহ প্রমুখ।

জোটের স্বতন্ত্র সভাপতি অ্যালেন টশার বলেন, সংস্কারের সময় যদি কারখানা  বন্ধ রাখতে হয় তবে শ্রমিকদের কমপক্ষে দুই মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে এ বেতনের অর্ধেক অ্যালায়েন্স ও বাকী অর্ধেক মালিকপক্ষ দেবে।

তিনি বলেন, ‘অ্যালায়েন্স চায় বাংলাদেশে পোশাক কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হোক।’ আর কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের জন্য ইতোমধ্যে জোটটির ৫০ শতাংশ কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে বলে জানান টশার।

অ্যালেন টশার জানান, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা বিধানে আমরা কতটুকু অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছি ও আমাদের প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়িত হলো তা জানাতে ঢাকায় এসেছি।’

এদিকে চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে ১০ লাখ শ্রমিক ও ব্যবস্থাপকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ৪ লাখ শ্রমিক ও ব্যবস্থাপককে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন টশার।

তিনি আরও বলনে, অ্যালায়েন্সের ২৬টি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। যা এই খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই খাতের মাধ্যমে দেশটির প্রবৃদ্ধির ৪০ শতাংশ হচ্ছে। তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শ্রমিকদের আরও কর্মক্ষম ও দক্ষ করে তোলা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর থেকে পোশাক খাতে অনেক কিছু ঘটে গেছে। তবে সরকার, মালিক ও ক্রেতা জোট মিলে কাজ করে সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ক্রেতা জোটটি ইতোমধ্যে ৫০ লাখ ডলারের তহবিল গঠন করেছে। তাতে ২২ লাখ ডলার রানা প্লাজা ক্ষতিগ্রস্থদের তহবিলে দেওয়া হয়েছে। আর বাকী অংশ থেকে তাজরিনের ক্ষতিগ্রস্থ ও সামনে এমন কোনো অনাকাংক্ষিত ঘটনার জন্য রাখা হয়ছে।

প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি বলেন, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের দুই ধরনের প্রশিক্ষণ হতে পারে না। যেহেতু এই প্রশিক্ষণ হচ্ছে শুধুমাত্র পোশাক শ্রমিকদরে নিরাপত্তা ও কাজের সুষ্ঠু পরিবেশের বিষয়ে  সেহেতু তা একই পদ্ধতিতে হওয়া উচিত।