‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান’

0
38
রোহিঙ্গা
ছবি সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদাঙ্গা হাঙ্গামা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার  সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দ্যা ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিলের নেতারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মিডিয়া ও ইনফরমেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, সারা বিশ্বে ধর্মীয়ভাবে নিগৃহীত জাতির মধ্যে রোহিঙ্গারা অন্যতম। তাদের জোর করে রাষ্ট্রহীন করে শরণার্থী বানিয়ে রাখা হয়েছে। প্রায় ২৫ লাখ রোহিঙ্গা আজ ধর্মীয়ভাবে নিগৃহীত। তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রতিনিয়ত মৃত্যূ ঝুঁকি নিয়ে দিন কাটাচ্ছে তারা।

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন,  মায়ানমারের  নাগরিকত্ব হারিয়ে রোহিঙ্গারা এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।  নৌকার মধ্যে আশ্রয় নিতে গিয়ে ২০০৮ সাল থেকে এই পর্যন্ত প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা পানিতে ডুবে মারা গেছে। অনেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আটকে আছে। গণহত্যার শিকার হয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। ধর্ষনের শিকার হয়েছে শতাধিক মহিলা রোহিঙ্গা।  ১৬ হাজার রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার হয়েছে ১৬ হাজার আর ঘরছাড়া হয়েছে দেড় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সাথে মায়ানমার সরকার সম্পূর্ণ মানবতা বিরোধী কাজ করছে।

এ সময় তিনি মায়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চাপ প্রয়োগ করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের অধীনে একটি তদন্ত কমিটি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,যারা আরাকান এবং মায়ানমারের অন্যান্য অঞ্চলে পাশবিকতা ও অপরাধী কাজে জড়িত তাদের একটি তালিকা করার অনুরোধ জানান।

আরাকানের শান্তির লক্ষ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিলের এই নেতা বলেন,  মায়ানমারের সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মায়ানমারকে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মুসলিম গোষ্ঠীর ওপর সকল মানবিকতা বিরোধী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে হবে। অন্যথায় এ ধরণের জাতিগত হামলা অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

যতদিন না রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার নিরাপদ পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় ততদিন পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ/সাকি