চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে: এম এ মান্নান

0
30
mannan khan

mannan khanচরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য বাজেটে আলাদাভাবে বরাদ্দ রাখা হবে বলে জানালেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান খান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে ‘চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন কেন জরুরী’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান।

ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স উন্নয়ন সমন্বয় এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

সংগঠনটির উদ্দেশ্যে মান্নান খান বলেন, শুধু চরাঞ্চলের মানুষের কথা চিন্তা করলে হবে না দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে। আগে আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশ ঠিক করতে হবে। তাহলে আমরা সবক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে পারবো। যারা রাস্তা বন্ধ করে বাসে আগুন দেয় তাদের বিরুদ্ধেও আপনাদের অবস্থান নিতে হবে।

মত বিনিময় সভায় সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর জাহিদ রহমান দেশের উত্তর-পশ্চিম ও উপকূলীয়  চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্রসহ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এতে চরাঞ্চলের ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের নিরন্তর দু:খ-কষ্টের এক বঞ্চনাময় জীবন উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নানা রকম দুর্ভোগ সহ্য করে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্য দিয়ে বসবাস করে দেশের ৩২টি জেলার শতাধিক চরাঞ্চলের মানুষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা রকম ঝুঁকি ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি সব রকম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত চরাঞ্চলের মানুষেরা। সরকার অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনধারণে সহযোগিতা করতে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পালন করলেও বিগত তিন অর্থ বাজেটে এসব চরাঞ্চলের মানুষের জন্য আলাদাভাবে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

এতে দেখা যায়, ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে ১৮১ কোটি ৭৫ লাখ  এবং ২০১০-২০১১ অর্থবছরে ৩ হাজার ৫৪৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বাজেট ছিল। দারিদ্রের হার অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ বণ্টন করা হয়নি। যার কারণে মূলভূমির অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৮০ ভাগ মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সুবিধার আওতায় আসলেও চরাঞ্চলের  অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ২০ থেকে ২৫ ভাগের বেশি মানুষ এই সুবিধা পায়নি।

চরের অতি দরিদ্র মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে এবং অতিদরিদ্র অবস্থা থেকে বের করে সরকারকে কয়েকটি পরামর্শ দেন তারা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ জাতীয় পরিকল্পনা ও জাতীয় বাজেটে আলাদাভাবে চরের জন্য বরাদ্দ রাখা। কৃষি খাত ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে চরাঞ্চলে আরও উন্নত ও যুগোপযোগী করা। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা বিষয়ে বাজেটে বরাদ্দ রাখা।  দুর্যোগকালীন সময়, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান বিষয়ে ভূমিকা রাখা। তথ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূমি অধিকার বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া।

সংগঠনের সভাপতি খন্দকার ইব্রাহিম খালেকের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, সাংসদ আজিজুল হক আরজু, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাধ্যক্ষ মোকাদ্দেম হোসেন, সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর শাহিন উল আলম প্রমুখ।

জেইউ/এএস