পোশাক পল্লীর জন্য সহজ শর্তে ১৪শ কোটি টাকার ঋণ দেবে চিন

পোশাক কারখানা
ছবি: ফাইল ছবি

garmentsমুন্সিগঞ্জের বাউশিয়ায় পোশাক পল্লী স্থাপণের জন্য চায়নার দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১৪০০ কোটি টাকার সহজ শর্তের ঋণ সহায়তা দিবে। এ ঋণের সুদ হার হতে পারে তিন শতাংশ। যা পল্লীর ভূমি উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। অর্থ পাওয়ার জন্য বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ কমিটি গঠিত হবে। কমিটির মাধ্যমে অর্থায়ন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে।

তৈরি পোশাকের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম অর্থসূচককে এ সহায়তার কথা নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বাউশিয়াতে ৫৭০ একর জমির উপরে এই প্রকল্প স্থাপিত হওয়ার কথা থাকলেও লক্ষ্য অনুসারে জমি সংগ্রহ করা যায়নি। এখন পযন্ত ৫৩২ একর জমি নিশ্চিত হয়েছে। চায়নার আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেআরডি ও দাদা অ্যান্ড কোম্পানির দেওয়া অর্থ শুধুমাত্র ভূমি উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া জমিগুলোকে ১, ৩ ও ৫ বিঘার প্লটে ভাগ করা হয়েছে। যার জন্য ১১০০ প্লটের বিপরীতে ১৭০০ আবেদন বিজিএমইএতে জমা পড়েছে বলে জানান তিনি। তবে জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় তা ৪৩২ টি প্লট হবে বলে জানান তিনি। তাছাড়া ৩০ শতাংশ জমি অবকাঠামোগত উন্নয়নে চলে যাবে বলে জানান তিনি।

কিভাবে এই জমি বরাদ্দ করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠান বছরে ১২ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি রপ্তানি করে তারা ৪০ শতাংশ এককালীন জমা দিয়ে প্লট নিতে পারবেন।আবার যেসব প্রতিষ্ঠান বছরে ১২ লাখ মার্কিন ডলারের কম রপ্তানি করে তারা ২০ শতাংশ এককালীন জমা দিয়ে প্লট নিতে পারবেন।

এদিকে পোশাক শিল্পের অন্য সংগঠন বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ হাতেম জানান, আজ দুই প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সদস্যদের নিয়ে এই বিষয়ে আলোচনা হবে। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে এখন পর্যন্ত বিকেএমইএতে আবেদন জমা পড়েছে ১১৯টি। তার মধ্যে এক বিঘা প্লটের জন্য ২৪টি, ৩ বিঘার প্লটের জন্য ৩২টি ও ৫ বিঘার প্লটের জন্য ৬৩টি আবেদন জমা পড়েছে বলে জানান তিনি।

এর পর সভা শেষে তিনি আরও জানান, প্রকল্পের অর্থায়ন যৌথ কমিটির মাধ্যমে করা হবে। ভূমি উন্নয়নে কোথায়, কিভাবে খরচ হবে তা কমিটি তদারকি করবেন বলে জানান তিনি।

চায়নার আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেআরডি ও দাদা অ্যান্ড কোম্পানি এই অর্থ দেওয়ার জন্য রাজি আছেন বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, পোশাক শিল্পে অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ তৈরির পরিকল্পনাকে সামনে নিয়ে কারখানা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।