খরার কবলে উত্তরাঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ও আম চাষিরা

0
67

Eri-Boro-Picগ্রীষ্মের শুরুতেই তীব্র খরার কবলে পড়েছে রাজশাহীসহ পুরো উত্তরাঞ্চল। প্রখর রোদ আর অব্যাহত তপ্ত হাওয়ায় অস্থির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ক্রমাগত তাপদাহ বৃদ্ধির ফলে মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। এতে করে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন রাজশাহী অঞ্চলের বোরো চাষি ও আম চাষিরা।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে গত এক সপ্তাহের বেশী সময় ধরেই ক্রমাগত তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে এ অঞ্চলে। এক সপ্তাহ ধরে এ অঞ্চলে সবোর্চ্চ তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠানামা করছে। সঙ্গে গরম হাওয়াও বইছে।

তানোর উপজেলার আমশো গ্রামের কৃষক মুকছেদ আলী জানান, কয়েক দিনের প্রচণ্ড তাপদাহে মাঠ ফেটে চৌচির। ধানের জমিতে দুএক দিনের বেশি পানি থাকছে না। এতে আবাদে খরচ বেশি হচ্ছে। ফলে তাদের লোকসানের আশংকা থেকে যাচ্ছে।

কৃষিবিদদের মতে, বোরো ধানের চারার গোড়ায় পানি থাকা আবশ্যক। আর এ সময় পরিমান মতো পানি না পেলে ক্ষেতে আগাছা জন্মানোর সাথে সাথে পোকামাকড়ের আক্রমণ বাড়ে ব্যাপকভাবে। যার কারণে বোরোর ফলন অনেক কমে যায়। এতে করে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার তেঘর গ্রামের আমচাষি দুলাল ও আফাজ উদ্দিন সরকার জানান, এবার গাছে গাছে প্রচুর মুকুল বের  হয়েছিল। মুকুল থেকে গুটিও টিকে ছিল অনেক। তবে গত এক সপ্তাহ থেকে  খরার কবলে বোটা শুকিয়ে ক্রমাগত ঝরে যাচ্ছে আমের গুটি। এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ বছরের দ্বিতীয়বার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড। একইদিন সর্বোনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গত ২৯ মার্চ। ওইদিন এ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।