আমদানি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করবে ডিসিসিআই

0
34
dcci pic
ডিসিসিআই'র লোগো

dcci picআমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্যের ওপর থেকে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করবে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এবারের বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব করবে সংগঠনটি। যা চলতি মাসের ২৩ তারিখে বাংলাদেশ রাজস্ব বোর্ডে প্রাক-বাজেট আলোচনায় উপস্থাপন করা হবে।

সংগঠনটির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও জীবন যাত্রার মানবৃদ্ধির সঙ্গে মোটর সাইকেলের চাহিদা বাড়ছে। এই চাহিদা বৃদ্ধির হার প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ। এখন সাইকেল তৈরির কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার স্বার্থে  সিকেডি পর্যায়ে আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ, সম্পূরক শুল্ক ৩০ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এবারের বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার কর মুক্ত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। যেখানে প্রথম ধাপে ৩ লাখ টাকা আয়ের ওপর শূন্য শুল্ক, দ্বিতীয় ধাপে ৪ লাখ টাকা আয়ের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক, তৃতীয় ধাপে ৫ লাখ টাকা আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক ও এর ওপরের আয়ে ২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়।

বয়স্ক নাগরিক ও মহিলা করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তা সাড়ে তিন লাখ টাকা করা। প্রতিবন্ধী করদাতার ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে তা ৪ লাখ টাকা করা যেতে পারে বলে মনে করে সংগঠনটি।

সংগঠনটি বলছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতার দরুণ ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে। আবার তার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মৌলিক চাহিদা মেটানোর ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই অবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।

পিভিসি ফ্লিম ৬০ মাইক্রোনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে তা ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। তাছাড়া নাইলন ফ্লিম পঁচিশ মাইক্রোনের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ও ইথাইল এসিটেটের আমদানি শুল্ক ১০ থেকে তা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়।

বলা হয়, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে আমদানিনির্ভর পণ্যটির শুল্ক কমালে এই শিল্প প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পারবে। তাছাড়া এই খাতের উদ্যোক্তারা আরও উৎসাহিত হবেন।

ওয়ারেন্টির বিপরীতে আমদানি করা চালান, ওয়ারেন্টি ও মূল চালানের কাগজপত্র দেখে সম্পূর্ণ শুল্ক-করমুক্ত খালাস দেবার আইনি ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করা হয়।

বাস, ট্রাক মিনিবাস, লাইট ট্রাকে ব্যবহৃত মধ্যবর্তী কাঁচামাল ট্রেড রাবারের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়। টার্ন ওভার ট্যাক্সের জন্য বার্ষিক ৮০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ কোটি টাকা নির্ধারণ করার জন্য প্রস্তাব করা হয়। সেই সঙ্গে টার্ন ওভার ট্যাক্স ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার দাবিও করা হয়। এর মাধ্যমে দেশে বিকাশমান ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং উদ্যোক্তারা আরও উৎসাহিত হবেন।

বাড়িভাড়ার (আবাসিক ব্যতীত) ওপর ৯ শতাংশ মূসক বাতিল করার দাবি করা হয়। যেখানে ৩০০ বর্গফুট পর্যন্ত অব্যাহতিপ্রাপ্ত।

বিস্কুট, ফ্লেভার্ড মিল্ক, চানাচুর, ডাল ভাজা, বাদাম ভাজা ইত্যাদি পণ্যের ট্যারিফ ভেল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি আইটেমের কনভার্সেশন কস্টকে ভিতি হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়।

এআর