রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়িতে শুল্ক ছাড় চায় বারভিডা

0
42

Carsহাইব্রিড প্রযুক্তির রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক ছাড় চায়  বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সংগঠনটি রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়িতেও নতুন হাইব্রিড গাড়ির সমান আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। একই সাথে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষমতা (সিসি) অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি পুনর্বিন্যাসের দাবি তাদের।

বুধবার বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে এনবিআরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব দাবি করেন তারা। এনবিআর চেয়ারম্যানের গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় বারভিডা, বাংলাদেশ অটো মোবাইল, সড়ক ও নৌ যোগাযোগের সাথে সম্পৃক্ত ২৬টি  সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও অংশ নেয় ১০টি সংগঠন।

এ সময় বারভিডার সভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও অধিকতর পরিবেশবান্ধব মোটরযান হিসেবে হাইব্রিড প্রযুক্তি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশেও এ গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। কিন্তু এ গাড়ির মূল্য বেশি হওয়ায় তা এ ধরনের গাড়ির ব্যবহার বাড়েনি। তাই দেশে পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির শুল্কহার কমিয়ে নতুন গাড়ির সমান করা উচিত। যুক্তি হিসেবে সংগঠনের নেতারা বলেন, জাপানে তৈরি হাইব্রিড গাড়ি নতুন গাড়ির প্রায় অর্ধেক দামে আমদানি করা সম্ভব। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত শুল্কের কারণে শুল্ক অনেক বেশি হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন গাড়ির মতো এই গাড়িতে শুল্ক হ্রাস করা হলে তা দেশের মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে বিক্রি করে জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্য সফল হবে।

তিনি বলেন, ২ হাজার ৫০০ সিসির একটি নন হাইব্রিড গাড়ি আমদানি করতে যেখানে ৪৫১ শতাংশ শুল্ক দিতে হয় সেখানে হাইব্রিড প্রযুক্তির নতুন গাড়ি আমদানিতে শুল্ক হার মাত্র ৬১  শতাংশ।

গাড়ি আমদানি শুল্কের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের ধারণ ক্ষমতার পরিমাপ পুনর্বিন্যাসের দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমানে গাড়ি আমদানিতে এক হাজার ৫০১ সিসি হতে দুই হাজার ৭৫০ সিসি পর্যন্ত  তিনটি স্লাব নির্ধারিত আছে। আর এক হাজার ৫০১ সিসি গাড়ির আমদানিতে শুল্ক হার অনেক বেশি হওয়ায় এর চেয়ে বেশি সিসির গাড়ি আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। তাই দেড় হাজার সিসির গাড়ির আমদানির ওপর চাপ কমিয়ে অন্যান্য গাড়ি আমদানিতে ৫টি স্লাব করে সম্পূরক শুল্ক হ্রাস করলে গাড়ির দাম কমবে।

হাবিবুল্লাহ ডন প্রস্তাব করেন দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৭৫০ সিসির গাড়ির আমদানি শুল্ক ৪৫২ শতাংশের পরিবর্তে ৩৭২ শতাংশ, দুই হাজার ৭৫১  থেকে চার হাজার সিসির গাড়িতে ৬০৮ শতাংশের পরিবর্তে ৪৫২ শতাংশ ও চার হাজার সিসির বেশি যে কোনো গাড়ি আমদানিতে  ৮৪২ শতাংশের পরিবর্তে ৬০৮ শতাংশ নির্ধারণের।

এ সময় মাইক্রোবাস আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মাইক্রোবাস  বিলাসিতার জন্য কেউ ব্যবহার করে না। এ গাড়িগুলো সাধারণত অ্যাম্বুলেন্স, শিক্ষার্থী বহন, পর্যটন শিল্প ও কারখানার কর্মী বহনে ব্যবহৃত হয়। তাই জনস্বার্থে এই গাড়ির আমদানিতে এক হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত ৩০ শতাংশ ও এর চেয়ে বেশি সিসির গাড়ি আমদানিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করলে দেশের আন্তঃসংযোগ ও যানজট নিরসন অনেকাংশে কমে যাবে।

এইউ নয়ন/এআর