মোটরসাইকেল আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব

0
70
মোটর সাইকেল, motorcycle

মোটর সাইকেল, motorcycleবিদেশ থেকে মোটরসাইকেল ও তার যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে মোটরসাইকেল উৎপাদনে যুক্ত দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশীয় মটরসাইকেল উৎপাদন শিল্প সংরক্ষণ ও আমদানি বিকল্প পণ্য হিসেবে দেশে উৎপাদিত যন্ত্রাংশের ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০১৪-১৫ প্রাক-বাজেট আলোচনায় মোটর সাইকেল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অন্যান্য মোটরযানের মতো মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনও সম্পূর্ণ বিযুক্ত অবস্থায় আমদানি নীতিমালা প্রণয়ন করার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির অর্থ সম্পাদক লোকমান হোসেন আকাশ জানান, সরকারী বিভিন্ন প্রণোদনার মাধ্যমে দেশে মোটরসাইকেলের কারখানা গড়ে উঠছে। সরকারী কোন নীতিমালা না থাকায় এ সকল প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উৎপাদিত যন্ত্রাংশ সিকেডি (কমপ্লিট নক ডাউন বা কয়েক ভাগ করে আনা) সংযোজনকারী ও স্থানীয় উৎপাদনকারীরা ব্যবহার করছে না।

তিনি আরও বলেন,দেশীয় এ সকল শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আমদানি বিকল্প পণ্য হিসাবে দেশে উৎপাদিত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করতে শুল্ক বৃদ্ধির সুপারিশ করছি। প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ফুয়েল ট্যাংক, সাইড কভার, হেড লাইট কভারসহ সকল রং করা যন্ত্রাংশ রেগুলেটরী শুল্ক ৫ শতাংশ অপরিবর্তীত রেখে সম্পূরক শুল্ক শুণ্য শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ এবং চেসিসের রেগুলেটরি শুল্ক ৫ শতাংশ রেখে বর্তমান শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা।

দেশীয় ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনগুলোর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশীয় মটরসাইকেল উৎপাদনকারীদের বাজারে টিকিয়ে রাখতে এই শুল্ক বৃদ্ধি জরুরী। কেননা গত বছর আমাদের ৬টি প্রতিষ্ঠান (ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রি, রানার অটোমোবাইলস, মার্সেল বিডি, রোড মাস্টার  মোটরস, নিউ গ্রামীণ মোটরস এবং এইচপিএম অটো ইন্ডাস্ট্রি) তিন লাখ মোটরসাইকেল বাজারজাত করত। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় তা কমে দেড় লাখ দাঁড়িয়েছে। তাই প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে আমাদের প্রস্তাব বিবেচনা করা জরুরী।

অন্যদিকে বাংলাদেশ অটোমোবাইল এ্যাসেম্বল এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সভাপতি মতিউর রহমান জানান, আর্ন্তজাতিক বাজারে অন্তর্বর্তী কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি ও ব্যাংক সুদ বেড়ে যাওয়ায় আমদানি মূল্যও বেড়েছে। অন্যদিকে মোটরসাইকেলের চাহিদা ১৮ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ছে। তাই আমদানি শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ এবং রেগুলেটরি শুল্ক শূন্য করার দাবি জানাচ্ছি।

এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনে সভাপতিত্বে অটোমোইল ও পরিবহন ২৬ সংগঠন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনেক সংগঠন ছিল অনুপস্থিত। এ সময় এনবিআরের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবদুল হকসহ এনবিআরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এইউ নয়ন