আদার দামে ধাঁধা, বছর ব্যবধানে বেড়ে তিন গুণ

0
60

ada_20754আবারও অস্থির হয়ে উঠছে দেশের আদার বাজার। সম্প্রতি কয়েক দফায় পণ্যটির দাম ওঠানামা করেছে। তবে দাম ওঠানামা করায় দেশি আদার তুলনায় এগিয়ে আছে চায়না আদা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, চলতি বছর ১৪ মার্চ রকমভেদে আদার দাম ছিল ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা। ১৪ এপ্রিল ২০১৪ এর দাম ছিল ১৭০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা।

আজ খুচরা বাজারে চায়না আদা ২৬০ টাকা কেজি দরে এবং অন্য আদা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। পাইকারি বাজারে চায়না আদা ২৩০ টাকা এবং অন্য আদা ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে আদার দাম নিয়ে ধাঁধা লাগার তথ্যটি হচ্ছে পণ্যটির দাম এক বছরের ব্যবধানে তিন থেকে চারগুণ বেড়েছে। এক বছর আগে খুচরা বাজারে পণ্যটির দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।

আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, চীনের বাজারে আদার দাম বাড়ায় বাংলাদেশের বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। তাদের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর আর্ন্তজাতিক বাজারে এর দাম বেড়েছে ৩ গুন। গত বছর যেখানে এক টন দাম ছিল ৭০০ থেকে ৮০০  মার্কিন ডলার, সেখানে এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার  থেকে ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ( যা বাংলাদেশি টাকায়  ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫৭৮ টাকা থেকে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৮ টাকা)।

আমদানিকারকরা জানান, ইন্দোনেশিয়া ও মায়ানমার ছাড়া সব দেশেই আদার সংকট। এ বছর চীনে আদার ফলন ভালো না হওয়ায় সে দেশের বাজারেই আদার দাম বেশি। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা সে দেশ থেকে যে কোনো সময় আদা আমদানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। উল্লেখ্য বাংলাদেশ চীন থেকেই সবচেয়ে বেশি আদা আমদানি করে থাকে।

আমদানিকারকদের তথ্যমতে, দেশে আদার মোট চাহিদার ৬০ শতাংশই আসে মূলত চীন থেকে। অবশিষ্ট ৪০ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ আসে ভারত, মায়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। বাকি ১০ শতাংশ চাহিদা মেটে দেশের উৎপাদনে।

দেশি আদা প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বরে বাজারে আসে। কিন্তু ডিসেম্বরের মাঝামাঝি তা শেষ হয়ে যায়।

ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, চলতি বছর মার্চ মাস থেকে আদার দাম ওঠা- নামা করছে বাজারে। চায়না আদা সপ্তাহ দুয়েক আগে বেড়ে ২৮০ টাকা কেজি হয়েছিল। পরে তা কমে ২৪০ টাকা হয় আর এখন তা আবার বেড়ে ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

পুরান ঢাকার শ্যাম বাজারের সুরমা বাণিজ্যালয়ের পরিচালক শ্রী ঝন্টু সাহা অর্থসূচককে বলেন, চায়না আদার দাম বেড়েছে তার কারণ হল সে দেশের বাজারে এর দাম বেড়েছে। আমরা চীন থেকে এক টন আদা আমদানি করছি ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। এর পর আবার পরিবহন খরচ বেড়েছে অনেক বেশি। আগে যখানে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পরিবহন খরচ হত সেখানে এখন ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা পরিবহন খরচ হচ্ছে। তার মতে এসব কারণেই বাজারে আদার দামে উর্ধ্বগতি।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও খাতুনগঞ্জ বাজারে সেক্রেটারি সৈয়দ সগির আহমেদ মুঠোফোনে অর্থসূচককে জানান, ইন্দোনেশিয়া ও মায়ানমার ছাড়া সব দেশগুলোতে আদার সংকট অনেক বেশি। ভারতের ক্যারেলা আদা আমাদের দেশে আসলেও তা অপ্রতুল।

আর এ কারণেই আদার চাহিদা মেটাতে আমাদের চীনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ বাস্তবতার কারণে চীনে আদার দাম বাড়ার সাথে সাথে অন্যসব আদার দাম বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সর্বত্র আদার কিছু চাষ হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় ব্যাপকভাবে আদার চাষ হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৭ হাজার হেক্টর জমিতে আদার চাষ করা হয়। এর হেক্টর প্রতি গড় ফলন প্রায় সাড়ে পাঁচ টন। এ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম। যার কারণে চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে আদা আমদানি করতে হয়।

এদিকে, কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক আদার সার্বিক চাহিদা রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ কেজি। সে হিসেবে বছরে দেশে প্রায় ১ লাখ টন আদার প্রয়োজন হয়।

এসএস