গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ইউক্রেন

0
37
ukraine

ukraine

ইউক্রেনে চলছে পাল্টাপাল্টি মহড়া। সশস্ত্র অবস্থায় সেনাবাহিনী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দেশটির বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত সংঘাতের কোন খবর পাওয়া না গেলেও দেশটিতে গৃহযুদ্ধের পূর্বাবস্থা বিরাজ করছে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স একথা জানায়।

গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন নিয়ে নোংরা রাজনৈতিক খেলায় মেতে উঠেছে রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলো। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তারাধিকার হিসেবে রাশিয়া সবসময় ইউক্রেনে নিজের কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন চেষ্টা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত নভেম্বরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরে অস্বীকৃতি জানান রাশিয়া সমর্থক প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ’র মদদে দেশটিতে চলমান আন্দোলনের চাপে ইয়ানুকোভিচ সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলে ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্তৃত্ব হুমকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে পশ্চিমাদের ঘনিষ্ঠতা রাশিয়ানদের শংকাকে আরও ঘনীভূত করে তোলে। এরই প্রেক্ষিতে, রুশ জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত ক্রিমিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে রাশিয়ার সাথে যোগদানের প্রস্তাব পাঠায়। ক্ষমতাসীন ইউক্রেন সরকার এবং পশ্চিমাদের পক্ষে এই কাণ্ডে নীরব দর্শক ভূমিকা পালন করা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। কিন্তু তাতে মনের ঝাল মেটেনি রাশিয়ান সরকারের। বিশেষ করে, গত কয়েক দিন ধরে খারকিভ, ডনেটস্ক, স্লেভিয়ানিস্ক এবং লুহানস্কে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উত্থান অন্তত পক্ষে তাই প্রমাণ করে।

কিন্তু এবার আর নীরব থাকেনি ইউক্রেন। বরং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে সেনাবাহিনী ব্যবহারের তোড়জোড় শুরু করে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই বিচ্ছিন্নতাবাদ উপদ্রুত এলাকাগুলোতে পৌঁছে গেছে। তবে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অপসারণে কোন অপারেশন পরিচালনা করা হয়নি। দেশটির সেনাবাহিনী সাঁজোয়া যান নিয়ে দেশটির পূর্বাঞ্চলে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। জবাবে বিচ্ছিন্নতাবাদীরাও সশস্ত্র অবস্থায় বিভিন্ন যানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এইসময় এইসব গাড়িতে রাশিয়ার পতাকা উড়তে দেখা গেছে।

এদিকে ইউক্রেনে চলমান সমস্যার সমাধানে দেশটির সরকারের সাথে বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে বসতে যাচ্ছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের উপস্থিতিতে জেনেভায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।