বাজেটে বিশেষ প্রণোদনা চান নন-বন্ডিং পণ্য রপ্তানিকারকরা

0
37
NBR 3-1

NBR 3-1আগামি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে কাঁচামালের আমদানি শুল্ক হ্রাস, বিভিন্ন পর্যায়ে কর কমানো ও রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা চায় বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিপিজিএমইএ। একই সাথে দেশের প্লাস্টিক শিল্পকে এগিয়ে নিতে  শিল্পপার্ক স্থাপন ও বিদেশ থেকে আমদানিকৃত প্লাস্টিক পণ্যের শুল্ক বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে তারা। আর কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারসহ বিশেষ প্রণোদনা চায় নন-বন্ডিং পণ্য রপ্তানি কারকদের সংগঠনগুলো।

বুধবার সকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে এনবিআরের সঙ্গে বাংলাদেশের নন-বন্ডিং পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনের সাথে প্রাক বাজেট আলোচনায় এসব দাবি করেন তারা। এনবিআর চেয়ারম্যানের গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় তৈরি পোশাক, হস্ত শিল্প, মৎস্য, প্লাস্টিক, সিরামিকসহ বিভিন্ন খাতের ৩৬টি নন-বন্ডিং পণ্য রপ্তানিকারকদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অংশ নেয় মাত্র ১৪টি সংগঠন।

আলোচনায় বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি জসীম উদ্দিন বলেন, প্লাস্টিক শিল্প বর্তমানে রপ্তানি আয়ের একটি  উল্লেখযোগ্য খাতে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ খাত আরও ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে এ খাতের অগ্রগতিতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে।  যে সমস্যা গুলো দূর হলে এ শিল্পের উৎপাদন দ্বিগুণ হবে এবং রপ্তানি আয়ও বেড়ে যাবে। যা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।

এসময় তিনি প্লাস্টিক শিল্পকে এগিয়ে নিতে বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে জেনারেটরের খুচরা যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, ইউরিয়া রেজিনের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ করা, আগামি ১০ বছর প্লাস্টিক সেক্টরকে কর অবকাশ সুবিধার আওতায় আনা, রপ্তানি মূল্যের ওপর উৎসে কর বিজিএমইএ’র মতো ৮০ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ শতাংশ করা, ১৫ শতাংশ মূসক প্রত্যাহার ও কর্পোরেট কর কমানো অন্যতম।

এছাড়া দেশীয় শিল্প রক্ষায় আগামি বাজেটে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পূর্ণাঙ্গ প্লাস্টিক পণ্যের আমদানির  শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ কিংবা তার চেয়ে বেশি করার দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হস্ত শিল্প রপ্তানিকারকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে হস্ত শিল্প রপ্তানিতে শুল্ক শূন্য শতাংশ করার পাশাপাশি ৫ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহারের দাবি করা হয়।

বাংলাদেশ ফুডস অ্যান্ড ভেজিটেবল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মানসম্পন্ন সেন্ট্রাল প্যাকিং হাউজ নির্মাণ ও রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষে প্রণোদনা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে নিয়ে আসার দাবি জানানো হয়।

জামদানি শাড়ি রপ্তানিতে বিশেষ প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামদানি প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনের সভাপতি এম আর মোস্তাক বলেন, পূর্বে এই শিল্পে ২৫ শতাংশ ইনসেপটিভ দেওয়া হতো কিন্তু এখন তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, টাঙ্গাইল শাড়ির সাথে কম মূল্যে জামদানি শাড়ি পাচার বন্ধ ও ভারতে বাংলাদেশের জামদানির প্যাটার্ন ব্যবহার বন্ধের দাবি জানান তিনি।

এদিকে দেশের গার্মেন্ট শিল্পের সহযোঘী হিসেবে বাংলাদেশের এমব্রডারি প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে  পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক প্রত্যাহার ও বন্ড লাইসেন্স ফ্রি করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক বোতল প্রস্তুত ও রপ্তানি কারকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে  অন্যান্য শিল্পের মতো সুবিধা দাবি করে বোতল রপ্তানিতে শূন্য শতাংশ শূল্ক দাবি করা হয়।

এছাড়া বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক, বাটন প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক, বাংলাদেশ পটেটো উৎপাদন ও রপ্তানিকারক, বাংলাদেশ টিমবার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উৎপাদন এবং সরবরাহ দুই পর্যায়ের পরিবর্তে যেকোনো এক জায়গায় উৎসে করারোপের দাবি জানানো হয়। আর কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো ও  পরীক্ষার নামে হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানান তারা।

তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, আপনারা সবাই শুধু কর কমানোর বিষয়ে কথা বলেন। কর বৃদ্ধির বিষয়ে কেউ কথা বলেন না। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর উচিত হবে একটি পণ্যে কর কমানোর কথা বললে অন্য পণ্যে বাড়ানোর বিষয়ে কথা বলা।

তিনি আরও বলেন, আগামি বছর দেশের উন্নয়নে প্রতিটি নাগরিকেরই দায়িত্ব হবে কিভাবে দেশের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা সেদিকে নজর দেওয়া।

এইউ নয়ন/এআর