‘রানা প্লাজায় নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের তালিকা প্রকাশের দাবি’

0
42
Wsj20130917031554

Wsj20130917031554শিগগিরই রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনে আহত-নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক শিল্পরক্ষা জাতীয় মঞ্চ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে গার্মেন্ট শ্রমিক শিল্পরক্ষা জাতীয় মঞ্চের সমন্বয়কারী শামীমা আক্তার শিরীন এ দাবি জানান।

শামীমা আক্তার শিরীন বলেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনে হতাহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের সঠিক তথ্য প্রকাশ করে তাদের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদেশিদেরচাপে নয় শ্রমিক নিরাপত্তা ও শিল্পের উন্নয়নের জন্য শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

গার্মেন্টস শিল্প সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্প আজ বিশ্বে আলোচিত-সমালোচিত। মাত্র তিন দশকেই এই শিল্প বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। এ শিল্পে ৫ হাজারেরও অধিক কারখানায় ৪০ লাখেরও বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পোশাক শিল্প বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নিরব সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এজন্য প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি ভীত হয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আজ এক সংকটময় সময় পার করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের শত্রুদের শনাক্ত করে তাদের শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে এ শিল্পকে রক্ষা করতে হবে। নতুবা দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে।

জিএসপি, অ্যাকর্ড ও এলায়েন্স প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার অযৌক্তিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার যে সকল কারণে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে তা সম্পূর্ণ অযুক্তিক। এটা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন অনুমোদন করে না। জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালে সরকার যখন সবকিছুই করেছেন তখন হঠাৎ করেই পোশাকশিল্পে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি অ্যাকর্ড ও এলায়েন্স আবির্ভূত হয়েছে। জিএসপি শর্ত পূরণ হলেও অ্যাকর্ড ও এলায়েন্সর শর্ত পূরণ এ মুহূর্তে দুঃসাধ্য ব্যাপার। অ্যাকর্ড ও এলায়েন্সর শর্ত পূরণ করতে না পারায় ইতোমধ্যে বেশকয়েকটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক।

কারখানার শ্রমিক কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ, তাদের দায়-দায়িত্ব বহন, ট্রাস্ট ফান্ডের টাকা জমা এবং সিএম বাড়ানো, শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধ, বন্ধ কারখানা চালু এবং ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি রোয়েদাদ বাস্তবায়ন করার দাবিও জানান তিনি।

এসব দাবি পূরণে বেশ কয়েকটি কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- আগামি ১৮ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে গার্মেন্টস শ্রমিক সমাবেশ, ২০ এপ্রিল শহীদ আসাদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা, ২২ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক সেমিনার ও ২৩ এপ্রিল মানববন্ধন এবং ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজার স্মৃতিফলকে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ ও পঙ্গু সমাবেশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের গোলাম রব্বানী জামিল, রফিকুল ইসলাম, শহীদুল্লাহ বাদল, আবুল হোসাইন, লাভলী ইয়াসমিন, শফিকুল ইসলাম, সুলতানা আক্তার প্রমুখ।

জেইউ/কেএফ