‘লক্ষ্য অর্জনে সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে’

0
36
BD_OLDER_PEOPLE
ফাইল ছবি

সরকারসহ অনেকেই আশা করছেন আগামি কয়েক দশকের  মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে। আর সে জন্য সরকারও সময়ের একটি লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। তবে  বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়ন গবেষকরা মনে করছেন অর্থনৈতিক ভাবে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। আর এজন্য জাতীয় বাজেটে খাতটিতে বরাদ্দ বাড়ানো দরকার বলেও মনে করেন তারা।

তবে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেওয়াটা খুব সহজ নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। তাদের মতে দেশের সামনে এখনও নীতি-কাঠামোগত জটিলতা, নগরায়ন, শহরাঞ্চলে দারিদ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায় ও পদ্ধতিসহ অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সোশ্যাল প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশঃ বিল্ডিং ইফেকটিভ সোশ্যাল সেফটি নেটস এন্ড ল্যান্ডার্স আউট অব প্রভার্টি শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ইউএনডিপি বাংলাদেশ, পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্স সেন্টার, ব্রম্নক ওয়ার্ন্ড প্রভার্টি ইনস্টিটিউট ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার এবং ইউনিভার্সিটি রিসার্স সেন্টার যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।
ইউএনডিপির কান্ট্রি পরিচালক পোউলিন টামেসিসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়্যারম্যান কাজী খলীকুজ্জামান , ব্র্যকের নির্বাহী পরিচালকের উপদেষ্টা মাহাবুব হোসেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বিনায়েক সেন, পাওয়ার এন্ড পার্টিসিপেশন রিসার্স সেন্টারের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

অনুষ্ঠানে হোসাইন জিল্লুর রহমান  পুর্নবন্টনমূলক সামাজিক মূল্যবোধ, দারিদ্র্য ও দুর্দশার মূল বাস্তবতা এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও উদ্ভাবনী এই চার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে  অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও বেগবান করার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক ইস্যুর সাথে জড়িয়ে গেছে। টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিতের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা একটি অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

ঢাকায় নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি নীল ওয়াকার বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সূচকে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে। এর মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। কিন্তু সামাজিক নিরাপত্তাকে কাজেও লাগিয়ে এটাকে আরও কমানো সম্ভব।

বিনায়েক সেন বলেন,কম আয়ের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় উপকারভোগী পরিবার প্রতিমাসে মাত্র ৪ থেকে ৫শ টাকা পায়। এটা খুবই কম। প্রতিমাসে এটা ১৫ হাজার টাকা হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা  পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুধামুক্ত হবে। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ চীনের তুলনায় ভালো করছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য তাদের জন্মগ্রহণের পর থেকেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য মা ও শিশুকে যৌথ কর্মপরিকল্পনার আওতায় আনা হবে।

এইচকেবি/