বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম স্থানান্তর করতে পারে পোশাক ক্রেতারা

0
44

h&m পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে একমুখে দুই কথা বলেছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এইচ অ্যান্ড এম। একদিকে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিকে সমর্থন করলেও অন্যদিকে মজুরি বৃদ্ধির কারণে খরচ বৃদ্ধির জেরে বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম স্থানান্তরিত করা হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি জার্মান দৈনিক ডাই ভল্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এইচ অ্যান্ড এমের প্রধান নির্বাহী কার্ল জোহান পেরসন এই সতর্ক বার্তা প্রদান করেছেন।

রানা প্লাজা এবং তাজরীন ফ্যাশনের দুর্ঘটনার পর পোশাক শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং মজুরি নিয়ে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠে। এর আগে থেকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিকরা নিম্ন মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে আন্দোলন করে আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে গত নভেম্বরে সরকার, মালিক পক্ষ এবং শ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর নূন্যতম মজুরি ৫৩০০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। মজুরি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি গার্মেন্ট মালিকরা পোশাকের দর বাড়ানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করলে অধিকাংশ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান খরচ বৃদ্ধির আশংকায় পিছু হটতে শুরু করে। এমনকি রানা প্লাজা এবং তাজরীন ফ্যাশনের দুর্ঘটনার অজুহাতে এইসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম স্থানান্তরিত করতে শুরু করে। কিন্তু এইসব প্রতিষ্ঠানই শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমর্থক হিসেবে প্রচার করে আসছে।

এইচ অ্যান্ড এমের প্রধান নির্বাহীর মতে, বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি মজুরি পেয়ে থাকেন। এমনকি তাদের মজুরি শিক্ষকদের সমান বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। পেরসন জানান, এশিয়ার দেশগুলোতে মজুরি বৃদ্ধির কারণে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাটা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এরই প্রেক্ষিতে আফ্রিকার দিকে ঝুঁকে পড়ছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম স্থানান্তরের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু না বললেও অন্যদের বরাত দিয়ে এমনটি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যেই এইচ অ্যান্ড এম কেনিয়া এবং ইথিওপিয়ায় স্বল্প পরিসরে পোশাক উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।

ডাই ভল্টকে পেরসন বলেন, বাংলাদেশ থেকে আমরা শুধু নই, আমর নই অনেকেই পোশাক ক্রয় করে থাকে। তাই শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের উচিত এখনই পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

তিনি আরও বলেন ,সুইডিশ সরকার এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আফ্রিকায় কার্যক্রম বাড়ানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্যাশন রিটেইলার এইচ অ্যান্ড এমের পূর্ণরূপ হেনিজ অ্যান্ড মাউরিটজ। সুইডেনের স্টকহোম ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। বিশ্বের ৫৩টি দেশে এইচ অ্যান্ড এমের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

এইচ অ্যান্ড এমের পক্ষ থেকে এই ধরনের বিবৃতি দেওয়ার পর ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পোশাক খাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিএমইএ’র এক সদস্য বলেন, ক্রেতা প্রতিষ্ঠান মজুরি বৃদ্ধির কারণে কার্যক্রম স্থানান্তর করলে মজুরি বাড়িয়ে লাভ কি? এতে তো মজুরি একবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে এইচ অ্যান্ড এমের মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম স্থানান্তরিত করলে দেশের পোশাক খাত বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি রপ্তানি আয়েও বড় ধরনের ধস নামতে পারে বলে অভিমত প্রদান করছেন তারা।