তিস্তা বাঁচানোর দাবিতে আরও দুইটি রোডমার্চ

0
35
tista
পানি শূন্য তিস্তা নদী। তিস্তা নদীতে ভারত সীমান্তে দেওয়া বাঁধের কারণে শুকনো মৌসুমে এমনই থাকে বাংলাদেশ সীমান্তের তিস্তা। ফাইল ছবি

tistaতিস্তা নদী থেকে ভারতের এক তরফা পানি প্রত্যাহার বন্ধ ও অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবিতে আরও সোচ্চার হচ্ছে দেশ। খুব শিগগিরই আরও দুটি রাজনৈতিক দল এই দাবিতে পালন করবে রোডমার্চ কর্মসূচি।

আগামিকাল বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় শুরু হচ্ছে বাসদ-সিপিবি চোটের রোডমার্চ। আর একই দাবিতে আগামি ২২ এপ্রিল থেকে রোডমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দেশের অন্যমত প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি।

বুধবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম দলটির এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। আজ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি জানান, ২২ তারিখ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এ লংমার্চ শুরু হবে। আর ২৩ এপ্রিল সকাল ১১টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্য রোডমার্চটি শেষ হবে।

ফখরুল এ সময় বলেন, “ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণেতো বাংলাদেশের তিন কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। এটি আমাদের জাতীয় সমস্যা। এজন্যই তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ।”

উল্লেখ্য এর আগে গত ৮ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ‘তিস্তা বাঁচাও-কৃষি ও কৃষক বাঁচাও-দেশ বাঁচাও’ শ্লোগানে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার্ উদ্যোগে একটি রোডমার্চ হয়। রোডমার্চটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডালিয়া পয়েন্ট শেষ হয়।

সে সময় গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা পক্ষ থেকে সরকারকে ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার করে স্বাধীন অবস্থান থেকে জোরালো কুটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থায় তিস্তার পানি বণ্টনের সমস্যাটি তুলে ধরার দাবি জানানো হয়।

প্রসঙ্গত ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে তিস্তা চুক্তিটি স্ই হওয়ার কথা থাকলেও সে সময় পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যয় এর বিরোধীতার কারণে তা হয়ে ওঠেনি।এর পর দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বেশ কয়েক দফা পারস্পারিক সফর হলেও তিস্তার বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি।

যৌথ নদী কমিশনের তথ্যমতে, তিস্তার নদীর এখনকার পানি প্রবাহ অস্বাভাবিক কম। কমিশনের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে ১৯৭৩ থেকে ৮৫ সাল পর্যন্ত দুই দেশে ব্যারেজ নির্মাণের আগে পানির যে প্রকৃতিক প্রবাহ ছিলো তা আর নেই।

কমিশনের হিসাবে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পানি প্রবাহ ছিল পাঁচ হাজার কিউসেক।এ বছর ফেব্রুয়ারিতে সেই পানি পাঁচশ কিউসেকে নেমে এসেছে। এর আগের বছর পানির প্রবাহ ছিলো আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার কিউসেক।

অথচ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ কমপক্ষে পাঁচ হাজার কিউসেক পানির দাবিদার।

এদিকে তিস্তার পানির ওপর ভরসা করে তিস্তা ব্যারেজ বা সেচ প্রকল্পের আওতায় এবছর রংপুর, নীলফামারি এবং লালমনিরহাট জেলার প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।

কিন্তু নদীতে পানি না থাকায়  বোরো আবাদ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন কৃষকরা।তাই তিস্তার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা এবং ঢাকায় পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এখন প্রতি সপ্তাহেই কোনো না কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।