পদ্ধতিগত কারণেই ঘুষ খাওয়া সহজ: দুদক চেয়ারম্যান

0
6
ফাইল ছবি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, যেসব কর্মকর্তা ঘুষ খান কিংবা দুর্নীতি করেন, তারা যেমন অসৎ, আবার যারা দায়িত্ব পালন করেন না কিংবা করতে পারেন না, তারাও অসৎ।

তিনি বলেন, পদ্ধতিগত কারণেই এ দেশে ঘুষ খাওয়া সবচেয়ে সহজ কাজ। যাদের মান-সম্মানের ভয় নেই তথা কোনো আত্মমর্যাদা নেই, তাদের পক্ষে ঘুষ খাওয়া সত্যিই সহজ। এই লজ্জাহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হলে দুদক কর্মকর্তাদের এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে ঘুষখোরদের আইনের আওতায় এনে লজ্জা পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

আজ রোববার সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের ভূমি ব্যবস্থাপনা শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পদ্ধতিগত সংস্কারের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে ২৭টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করা হয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ শ্রম ও সময় ব্যয় করছি। আমাদের উদ্দেশ্য ঘুষ-দুর্নীতির ফাঁকফোকর বন্ধ করা।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিপূর্ণভাবে ডকুমেন্ট তথা কাগজনির্ভর। আবার দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুসারে অনুসন্ধান বা তদন্তকাজে কমিশনের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। যেকোনো ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহ করার জন্য আইনি নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তদুপরি কেউ এই নির্দেশ পরিপালন না করলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আইনি প্রক্রিয়ায় কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় প্রকার দণ্ড প্রদানের বিধানও রয়েছে। তারপরও কেন কমিশনের অনুসন্ধান বা তদন্ত আইন অনুসারে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হচ্ছে না, কেন কিছু কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারছেন না; নিজ দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এর দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে।

দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজে দুর্নীতিমুক্ত না থাকলে এবং চলন-বলন তথা আচরণের উৎকর্ষতা না রাখলে কেউ শ্রদ্ধা করে না। এটাও সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, সবাই পদোন্নতি পেতে চান, কিন্তু দায়িত্ব নিতে চান না।

কমিশন ব্যাপকভাবে পদোন্নতি দিয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এখন সমন্বিতভাবে কাজ করার সময়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত কাজের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায়।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন না করার ব্যর্থতার জন্য কেউ কেউ হাজার হাজার অজুহাত দেখান। আবার এই প্রতিষ্ঠানেরই অনেক মেধাবী সৎ কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা নির্ধারিত সময়েই মানসম্পন্ন তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। তাহলে যারা ব্যর্থ হচ্ছেন, তাদের সম্পর্কে মানুষের ধারণা কী হতে পারে। নিজেরাই নিজেদের মূল্যায়ন করুন।

অর্থসূচক/কেএসআর