তিন কারণে নেতৃত্বে মেঘনা পেট্রোলিয়াম

0
48
padma meghna jamuna

padma meghna jamunaপুঁজিবাজারে ঘুম ঘুম ঝিমুনি কাটিয়ে হঠাৎ জেগে উঠেছে ৩ তেল বিপণন কোম্পানি। মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তিনটি কোম্পানিই লেনদেনে শীর্ষ দশের তালিকায় জায়গা করে নেয়। এদের মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে। পদ্মা অয়েলের জায়গা হয় পাঁচ নাম্বারে। আর ৭ নাম্বারে জায়গা করে নেয় যমুনা অয়েল।

শুধু লেনদেন নয়, মঙ্গলবার কোম্পানি তিনটির শেয়ারের মূল্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। এদের মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারের দাম বাড়ে সাড়ে ৫ শতাংশ।যমুনা অয়েলের শেয়ারের দাম সাড়ে ৪ শতাংশ এবং পদ্মা অয়েলের শেয়ারের দাম আড়াই শতাংশ বাড়ে।

মঙ্গলবার অনেক দিন পর জ্বলে তেলের পিদিম। হাসি ফুটে বিনিয়োগকারীদের মুখে। দীর্ঘদিন প্রায় একই জায়গায় ঘোরাফেরা করার পর মঙ্গলবার শেয়ার তিনটির বড় উল্লম্ফনে বেশ চমকে উঠেন অনেক বিনিয়োগকারী। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারের লেনদেন ও দর বৃদ্ধিতে চমকের কিছু নেই। বরং শেয়ার তিনটির মৌলভিত্তি যা, তাতে আরও আগেই গতিশীলতা দেখা পেতে পারত এরা।

ডিএসইতে মঙ্গলবার লেনদেনে নেতৃত্ব দেয় মেঘনা পেট্রোলিয়াম। এ স্টক এক্সচেঞ্জের মোট লেনদেনের ১০ ভাগ নিজের দখলে নিয়ে নেয় কোম্পানিটি। আর তিন তেল বিপণন কোম্পানি দখলে নেয় মোট লেনদেনের প্রায় ২০ ভাগ।

বিশ্লেষকদের মতে, তিন কারণে মেঘনা পেট্রোলিয়ামে ঝোঁক বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের। এগুলো হচ্ছে-নিম্ন মূল্য-আয় অনুপাত, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা।

বর্তমানে বাজারে ব্যাংকিং খাতের বাইরে তেল বিপণনকারী ওই তিন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য-আয় অনুপাতই (পিই রেশিও) সবচেয়ে কম। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর চেয়েও কম। মঙ্গলবার লেনদেন শেষে ডিএসইতে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের পিই রেশিও দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৪৪, যমুনা অয়েলের ১২ দশমিক ৯২ এবং পদ্মা অয়েলের ১৬ দশমিক ৩১। অথচ এদিন বাজারের গড় পিই রেশিও ছিল ১৮ দশমিক ৬৪।  বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে লিন্ডে বিডির পিই রেশিও ২১ দশমিক ৫৬, হাইডেলবার্গ সিমেন্টের পিই রেশিও ২৩ দশমিক ১৬, লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের ২৮ দশমিক ৮১, সিঙ্গারের ২৮ দশমিক ৯১, বিএটিবিসির ৩২, বার্জারের ২৭ দশমিক ০৭, গ্ল্যাক্সো ৩৪ দশমিক ১৯ এবং রেকট বেনকিজারের পিই রেশিও ৩১ দশমিক ২২।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষ সাত বছর পর তার সব সম্পদ পুনমূর্ল্যায়ন করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এ কাজের জন্য আন্তর্জাতিক চার্টার্ড একাউন্টেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে। কোম্পানিটি ২০০৭ সালে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে বাজারে শেয়ার বিক্রি করেছিল।  আর সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য ২০০৬ সর্বশেষ সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন করেছিল কোম্পানিটি। মাঝখানের দীর্ঘ সময়ে সম্পদের মূল্য অনেক বেড়েছে। তাই পুনর্মূল্যায়নের ফলে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য বা এনএভি অনেক বেড়ে যাবে বলে আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

তেল বিপণন কোম্পানির ভবিষ্যত নিয়েও আশাবাদী অনেক বিনিয়োগকারী। দিন দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহার বাড়ছে। দেশে গ্যাসের স্বল্পতা এবং কয়লা নীতির অভাবে বড় খনিগুলো থেকে উত্তোলন শুরু করতে না পারায় আগামি দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল প্রধান জ্বালানি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিসংখ্যান অনুসারে মঙ্গলবার মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ১৮ লাখ ৯৭ হাজার শেয়ার কেনা-বেচা হয়, যার মূল্য ৫৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। পদ্মা অয়েলের ৮ লাখ ২৭ হাজার শেয়ার ৩০ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় এবং যমুনা অয়েলের ৯ লাখ ৬২ হাজার শেয়ার ২২ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় লেনদেন হয়।

এ তিন কোম্পানির মোট ১১০ কোটি ৩০ লাখ টাকার মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ১৬ শতাংশ। এ দিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৪৭ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।