নিম্ন আয়ের মানুষের রেস্তোরাঁকে ভ্যাটমুক্ত রাখার দাবি

0
38
এনবিআর

এনবিআরদেশিয় রেস্তোরাঁ, ছোট হোটেল ও দই-মিষ্টির দোকানের ক্রেতা-ভোক্তা সাধারণত শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও প্রান্তিক আয়ের মানুষ। তাই এ নিম্নআয়ের মানুষকে সেবা করে তার বিনিময়ে প্রাপ্ত সামান্য অর্থকে ভ্যাটমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। একই সাথে আগামি বাজেটে ই.সি.আর মেশিনের বাধ্যবাধকতা বাতিলসহ বেশ কয়েকটি দাবি করেন তারা।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে এনবিআরের সাথে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় এ দাবি করেন তারা। এনবিআরের  চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় হোটেল, ট্যুরিজম, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও বিবিধ সেবা দানকারী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, রাজধানীর অলি-গলিসহ সারা দেশের জেলা উপজেলায় অবস্থিত সম্পূর্ণ দেশীয় রেস্তোরাঁ ও গ্রামীণ দই-মিষ্টির দোকানিরা ক্রেতাদের সামান্য মূল্যে সেবা দিয়ে থাকে। এর বিনিময়ে তারা যে অর্থ পায় তা দ্বারা কোনোরকম পেটে-ভাতে বেঁচে থাকে। এসব দোকান ও রেস্তোরাঁর ভোক্তা হয় সাধারণত   শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও প্রান্তিক আয়ের মানুষ। তাই এ রেস্তোরাঁ ও দোকান মালিকদের বিক্রয়ের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এক অর্থে জুলুম। এছাড়া গ্রামীণ শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত হোটেল, দই-মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁর ওপর আন্তর্জাতিক মানের হোটেলের মতো সেবার বিনিময়ে ১০০ শতাংশ ভ্যাট অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তারা।

এ সময় তারা বলেন, দেশিয় রেস্তোরাঁ ও গ্রামীণ দই-মিষ্টির দোকানে ব্যবহৃত উপকরণ মাছ-মাংশ, শাক-সবজি, চাল-ডাল, ডিম-মুরগি, পেঁয়াজ-রসুন, হলুদ-মরিচ, আদা-লবণ, জিরা-মশলা, গাভীর দুধ-ছানা, তেল-ঘি প্রভৃতি কৃষিজাত পণ্য হওয়ায় ভ্যাট দিতে হয় না। একইভাবে আটা-ময়দা, পাউডার দুধ, চিনি, চা পাতা, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিলে কর প্রদান করা হয়। সেক্ষেত্রে আলাদাভাবে বিক্রয়ের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ব্যবসায়ীদের লাভ থেকে বঞ্চিত করে। একই সাথে ব্যবসায়ীদের লাভ করার প্রবণতা থেকে অধিক মূল্যের বোঝা চাপে ক্রেতাদের ওপর।

প্রত্যেক দোকানে ইলেকট্রিক ক্যাশ রেজিস্ট্রারের (ই.সি.আর) মাধ্যমে বিল নেওয়ার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, রেস্তোরাঁ, ছোট হোটেল ও দই-মিষ্টির দোকানের ক্রেতা-ভোক্তা সাধারণত শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও প্রান্তিক আয়ের মানুষ। এর ফলে তারা কম মূল্যের জিনিস পত্র ক্রয় করে। তাই তারা ই.সি.আরের মাধ্যমে প্রিন্টেড বিল ইস্যু করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না।

তারা আরও বলেন, একজন ছোট ব্যবসায়ী প্রতিদিন বাকিতে পণ্য কিনে সন্ধ্যায় তা পরিশোধ করে। তাই তাদের  পক্ষে তিন হাজার টাকা মুল্যের এ মেশিন কেনা কষ্টকর। এছাড়া অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অশিক্ষিত হওয়া তাদের দ্বারা এ মেশিন চালানোও সম্ভব নয়।

এইউ নয়ন/সাকি