‘ছাত্র রাজনীতি নয়, শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করা উচিত’

0
58
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রান্ট

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রান্টবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধ করার বিষয়ে জনমত আছে এবং ভবিষ্যত নেতা তৈরির জন্য ও ছাত্রদের রাজনীতি সচেতন হওয়ার জন্য ছাত্র রাজনীতি চালু রাখা উচিত।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলতায়তনে সামাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আয়োজিত ‘বুর্জোয়া ছাত্র সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসের দায় ছাত্র রাজনীতির নয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং গবেষক মোরশেদ শফিউল হাসান এই কথা বলেন।

মোরশেদ শফিউল বলেন, শিক্ষক রাজনীতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কোন উপকার করেনি বরং ক্ষতি করেছে অনেক বেশি। শিক্ষক রাজনীতি বন্ধের ব্যাপারে দেশে সাধারণ জনগণের সমর্থন রয়েছে।

বর্তমান ছাত্র রাজনীতির যে চর্চা, তার কারণে অনেকে এটি বন্ধ করার পক্ষপাতী। তবে এটি মনে রাখতে হবে ছাত্রদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই ছাত্ররাজনীতিতে পড়ে না, সেটি সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। কিন্তু এটাও সত্য যে, ছাত্র আন্দোলনের ফসল বাংলাভাষা, স্বাধীনতা।

ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য হচ্ছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ। তারা অধিকাংশই সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমেই এই পদে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। তাই তারা সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত। তাদের থেকে ভাল কিছু কখনই আশা করা যায় না।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-১৯৭৩ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে উপচার্যের নির্দেশনাই সব। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট সদস্য এবং সিন্ডিকেট সদস্যরা থাকলেও এখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ নেই। এই ধরণের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করার জন্য উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে পদ্ধতিমূলক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই স্বচ্ছতা থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নিও লিবারেল ক্যাপিটালিজম এবং শিক্ষাকে বাজারিকরণের যুগে থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বলা হচ্ছে নিজের খরচে চলার জন্য। কিন্তু এটি বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্কে দুরত্ব সৃষ্টি হবে।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ৯০’র দশকের পর দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। আর এই সুযোগে দলীয় রাজনীতি এবং ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের রাজনীতি শুরু হয়েছে সকল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের কৌশলপত্রে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের কথা বলা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে ছাত্রদের সংগঠিত হতে না দেওয়া এবং ছাত্রদের আন্দোলন বন্ধ করা। অতএব এটি কৌশলপত্র নয় বরং একটি চক্রান্তপত্র। তাই এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিশ্বব্যাংক, এডিবির মত বিভিন্ন দাতা সংস্থা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্পৃক্ততা আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মনে করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময়।

এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, ক্রাম্পাসে আধিপত্য সুবিধাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা ছাত্রদল, শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়? তারপরেও কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিগণ এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না? তারা নিজেরা রাজনীতির সাথে যুক্ত বলেই তারা এসব বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

সংগঠনের সভাপতি সাইফুজ্জামান সাকনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বাসদ কেন্দ্রীয় কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাগক ড. এ কে মনোয়ার উদ্দিন আহমেদ, নটরডেম কলেজের শিক্ষক এ এন রাশেদা প্রমুখ।

জেইউ/সাকি