হালখাতায় ব্যবসায়ীদের বর্ষবরণ

0
43

halkhataপ্রতিবছরের মতো এবারও পুরোনো হিসাবের খাতা বদলে নতুন হিসাব খুলছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতার সাথে বছরের দেনা-পাওনার হিসেব সমন্বয় করে নতুন খাতা খোলেন। দেনা-পাওনার হিসাব শোধ করে দোকানি বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে মিষ্টিমুখে সম্মানিত হন ক্রেতারা।

সারা দেশের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মতো পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারের স্বর্ণের দোকান, শ্যামবাজারের আড়ত এবং ইসলামপুরের কাপড়ের দোকানেও হালখাতার ধুম লেগেছে। বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে ওই এলাকার দোকানগুলোতে দেখা গেছে হালখাতা আয়োজনের হিরিক।

পুরান ঢাকার ‘হালখাতা’ উৎসব মূলত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেই বেশি উদযাপিত হয়। সাধারণত সনাতন পঞ্জিকার তারিখ অনুযায়ী পয়লা বৈশাখের দিন হালখাতা করা হয়। ওই পঞ্জিকার হিসাবে আজ মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখ।

জানা গেছে ওই এলাকার ব্যবসায়িরা চৈত্র মাসের শুরু থেকেই নিয়মিত ক্রেতাদের নিমন্ত্রণ জানানোর কাজ শুরু করেন।

তবে একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, একসময় খুব জাঁকজমকভাবে হালখাতা হলেও এখন সেই উৎসাহ-উদ্দীপনা অনেকটাই কমে গেছে। নিয়ম রক্ষার জন্য দোকানপাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। পুরোনো খাতার বদলে লাল রঙের খাতা কেনেন।

জুয়েলারি দোকান জয় কোং এ মালিক বলেন, পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ। এইদিন ব্যবসায়ীরা তাদের পুরনো বছরের দেনা-পাওনার হিসাব সমন্বয় করে নতুন খাতা খোলেন। এ দিন পুরনো হিসেব চুকিয়ে ফেলেন। যদিও হালখাতা উৎসবে আগের মতো তেমন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। তবুও আমাদের পরিবার প্রতিবছর এ উৎসব পালন করতো আমরাও সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি।

তার মতে প্রযুক্তির বিকাশে কারণে এখন অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিংএর মাধ্যমে পণ্য নেওয়ার দুই এক দিনের মধ্যেই টাকা পরিশোধ করে দেন। ফলে আগের মতো আয়োজন করে এখন আর হালখাতা করা হয়না। আর ঐতিহ্যগতভাবে এ থেকে বকেয়া আদায়ের যে পরিমান ছিলো তাও অনেক কমে গেছে।

প্রসঙ্গত,সম্রাট আকবরের রাজত্বকাল থেকেই ‘হালখাতা’ পহেলা বৈশাখের আচার অলঙ্কার হিসেবে বিবেচিত। হালখাতার পাশাপাশি জমিদারকে খাজনা প্রদানের অনুষ্ঠান হিসেবে ‘পুণ্যাহ’ প্রচলিত ছিল। নববর্ষের প্রথম দিন প্রজাকুল সাধ্যমতো ধোপদুরস্ত পোশাকে সজ্জিত হয়ে জমিদারবাড়িতে গিয়ে খাজনা পরিশোধ করে মিষ্টিতে আপ্যায়িত হতো। জমিদারি প্রথা উঠে যাওয়ায় ‘পুণ্যাহ’ এখন বিলুপ্ত হয়েছে। তবে বাঙ্গালি সংস্কৃতিতে ব্যবসায়ীরা ‘হালখাতা’র সমৃদ্ধ ইতিহাস ছোট আকারে হলেও আজও পালন করে চলেছেন।