চুল পড়ে যাচ্ছে ? তাহলে…

0
121

mim-hairঘন কালো, মসৃণ, লম্বা চুলের স্বপ্ন সবাই দেখে। তবে ঝলমল কালো চুল চাইলেই পাওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন  নিয়মিত যত্ন। সে দিনে কি রাতে !

অর্থসূচকের পক্ষ থেকে নিচে চুল পড়া রোধের কিছু পরামর্শ দেওয়া হল-

১. খাবারে লবণ কম খাবেন। কারণ লবণ মাথার ত্বকের কোষে পানি জমতে সাহায্য করে। আর ত্বকের কোষে পানি জমলে চুলের গোড়া নরম হয়ে অধিক চুল পড়ে। তাই চুল পড়া রোধে লবণ খাওয়া কমাতে হবে।

২. সঠিক সময়ে ও পরিমাণমত না খেলেও মাথার চুল পড়ে যায়। তাই রুটিন মেনে খাবার খেতে হবে। নইলে চুল পড়া কখনই কমবে না।

৩. সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর পুষ্টি উপাদান আছে যেগুলো চুলের জন্য অনেক বেশি উপকারি। এক্ষেত্রে  প্রচুর পরিমাণে আয়রণযুক্ত শাক যেমন, লাল শাক, কচুশাক খেতে হবে। তাহলেই চুল পড়া কমবে। তবে চুল পড়া রোধে আঙ্গুরের রস আলু, বাঁধাকপি, মিক্সড সালাদ, কলা, মুরগির মাংস, ডিমও খেতে পারেন।

৪. প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ফলমূল ও শাকসবজি খেলে চুল পড়া কমবে। এর মধ্যে নাশপাতি, বাদাম, গম, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডিম অন্যতম। তবে জলপাই তেলও চুল পড়া রোধে উপকারি।

৫. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার শুধু চুল শক্তই করে না,  চুল গজাতেও সহায়তা করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ, গোশত, ডিম, দুধ, ডাল, দই, পনির ইত্যাদি থাকা জরুরি। এতে করে চুল ঝরে যাওয়া রোধ হবে ও চুল পড়া কমবে।

৬. অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত খাবার (যেমন- আইসক্রিম, পেস্ট্রি কেক, লবণ, ফাস্টফুড, চিনি, বাটার, ক্রিম, ভাজা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, চকলেট এবং হোল মিল্ক, কার্বনেটেড ড্রিঙ্কস) খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।  তাহলে চুল পড়া কমবে।

৭. চুল পড়া রোধে খুব কার্যকর হলো তিসির তেল। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা- থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে যা চুল পড়া কমায়। তবে এটি সালাদের সাথে মিলিয়ে খেলে অনেক বেশি ভাল ফল পাওয়া যায়।

৮. চুল খুব ঘন ঘন আঁচড়ানো ঠিক নয়। কারণ খুব বেশি চুল আঁচড়ানোর ফলে মাথার ত্বকের সেবাশিয়াস গ্রন্থি সক্রিয় হয়ে উঠে। আর এতে চুল পড়ে আরও বেশি। আবার নিন্মমানের চিরুনি বা ব্রাশ ব্যবহার করে সঠিকভাবে চুল না আঁচড়ালেও চুল পড়ে। কাজেই চুল পড়া রোধে এগুলোকে অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।

৯. নতুন চুল গজাতে প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে নারিকেল তেল দিয়ে অন্তত ১০-১৫ মিনিট চুলের ম্যাসাজ করুন। এতে মাথার রক্ত সঞ্চালন বাড়াবে যা চুল পড়া কমাতে সাহায্য করবে।

১১. ঘুমাতে যাওয়ার সময় খসখসে সুতির বালিশের কভারে চুলের ভীষণ ক্ষতি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেখা দিতে পারে আগা ফাটা ও চুল ভেঙ্গে ঝরে পড়ার সমস্যা। চুলের এই ক্ষতি থেকে মুক্তি পেতে বালিশের কভার বদলে সার্টিন অথবা সিল্ক কাপড় দিয়ে বালিশের কভার বানিয়ে নিন। তাহলে চুল গুলো যত্নে থাকবে।

১২. রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুল গুলো হালকা করে বেঁধে নিন। তাহলেও চুলগুলো থাকবে সুন্দর ও মজবুত।

১৩. মাথায় গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না কারণ এটি চুলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। আবার জেল ব্যবহারেও চুলের অনেক ক্ষতি সাধিত হয়। তাই এগুলো সবসময় এগিয়ে চলতে হবে। এমনকি চুল পড়া রোধে দীর্ঘ সময় ধরে হেলমেট, টুপি, স্কার্ফ ব্যবহার না করাই ভালো।

১৪. চুল সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা থাকার কারণেও অনেক সময় চুল পড়ে। প্রচলিত ধারণায় বলা হয়, রাতে শোয়ার আগে টান টান করে বেণী বেঁধে ঘুমালে চুল তাড়াতাড়ি লম্বা হয়। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এতে বরং চুল আরও দ্রুত ঝরে পড়ে। আবার ভেজা চুল কখনো আঁচড়াবেন ও বাঁধবেন না। এমনকি তোয়ালে দিয়ে খুব ঘষে চুল মুছলেও চুলের ক্ষতি হয়। তাই এটা করবেন না। তবে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে যোগব্যায়ামের আসনে বসে চুল আঁচড়াবেন। তাহলে চুল পড়া বন্ধ হবে এবং আপনি মানসিক চাপমুক্ত হয়ে ঘুমাতে পারবেন।

১৫. প্রতিদিন ১৬-২০ গ্লাস পানি পান করলেও চুল পড়া রোধ হয়।

১৬. যারা প্রতিদিন ঘরের বাইরে বের হন তাদের এক-দুই দিন অন্তর চুল শ্যাম্পু করা প্রয়োজন। তাহলেও চুল পড়া কমবে। তবে এক্ষেত্রে চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। আর শ্যাম্পু করার সময় আপনার মাথা ভালভাবে ম্যাসাজ করতে হবে।

১৭. চুল পড়া রোধের জন্য বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচলিত আছে। তবে বর্তমানে চুল পড়া রোধে বাজারে মিনোক্সিডিল নামের ওষুধ পাওয়া যায়। এছাড়াও নিতে পারেন লেজার থেরাপি এলএইচটি, হেয়ার ফলিকল রিপ্লেসমেন্ট, হেয়ার স্কাল্প রিপ্লেসমেন্ট এর অন্য সব চিকিৎসা।

১৮. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নতুন চুল গজানো ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়তা করে।

১৯. ধুমপানের কারণে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, রক্ত নালিকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও চুল পড়ে। তাই এটি পরিহার করুন।

২০. রক্ত সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য প্রতিদিন একটু করে ব্যায়াম করুন। তাতেও চুল পড়া কিছুটা কমবে।

২১. আবার হরমোনের তারতম্যের কারণেও চুল পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে সুষম আহার, চুলের সঠিক পরিচর্যা এবং প্রয়োজনে কিছু ওষুধের ব্যবহারেও চুল পড়া কমে যায়।