পর্যটন শিল্প বিকাশে অন্যান্য শিল্পের মতো বিশেষ সুবিধা দাবি

0
50
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই সেতু

Meghla_Bandarbanসার্ভিস চার্জের ভ্যাট প্রত্যাহার, যানবাহন আমদানি শুল্কমুক্ত করণ, বিশেষ ব্যাংক ঋণসহ নানান বিষয়ে অন্যান্য শিল্পের ন্যায় সুবিধা চায় বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত সংগঠনগুলো। একইসাথে তারা ট্যুর অপারেটরদের প্যাকেজের ওপর করারোপ না করে কেবল প্রাপ্ত লভাংশের ওপর করারোপের দাবি জানান।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে এনবিআরের সাথে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানান তারা। এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে এ আলোচনা অনুষ্ঠানে হোটেল ও ট্যুরিজম খাতের সাথে জড়িত ১২টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ ট্যুরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা জানান, পর্যটন শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত। কিন্তু এ খাতকে ২০১০ সালের আগে গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে আসা হয়নি। বর্তমানে এ খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষনা করে গুরুত্ব দেওয়া হলেও দেওয়া হচ্ছে না বিশেষ সুবিধা। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারে শিল্পটিকে এগিয়ে রাখতে হলে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ভ্যাট ও শুল্কের পরিমাণ কমানো দাবি তাদের।

দেশের অন্যান্য শিল্প খাত বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা, করমুক্ত বাসা, বিভিন্ন করে বিশেষ সুবিধা পায় উল্লেখ করে তারা বলেন, বাংলাদেশে পর্যটকদের জন্য উন্নত মানের গাড়ি নেই। তাই পর্যটকদের জন্য গাড়ি আমদানি অন্যন্য শিল্পের যন্ত্রাংশ আমদানির ন্যায় শুল্কমুক্ত রাখা, সার্ভিস চার্জ প্রত্যাহার, ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্য সুবিধা গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্প খাতের ন্যায় করার দাবি জানান তারা।

এসময় তারা জানান, একজন ট্যুর অপারেটর কোন ভ্রমণ পরিচালনার জন্য যে বৈদেশিক অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পেয়ে থাকে তা হোটেল, যানবাহন, খাদ্য ও পানীয়, দর্শনীয় স্থানে প্রবেশমূল্য  ইত্যাদি বাবদ খরচ করে থাকে। এই প্রাপ্ত অর্থ থেকে লভ্যাংশের পরিমান মোট অর্থের ৫ থেকে ৭ শতাংশ মাত্র। অথচ ব্যাংকগুলো আয়কর বাবদ ১০% হারে বৈদেশিক মুদ্রা কর্তন করছে। ফলে ট্যুর অপারেটরদের লাভের পরিবর্তে লোকসানের সম্মুখিন হতে হয়। আর তাই এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে ও এজেন্সী গুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান করতে পুরো প্যাকেজের ওপর করারোপ না করে লভাংশের ওপর আরোপের দাবি জানান তারা।

তারা আরও জানান, আন্তর্জাতিক মানের হোটেল গুলোর খরচ ও রাজস্ব বোর্ডের অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হয় বিধায় লাভবান হচ্ছে না। এ শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা। ফলে বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভবনা থাকলেও এ শিল্পে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না।

ব্যাংক ও হোটেলের মধ্যে বিদেশি ডলার বিনিময় হারের সমন্বয়হীতা উল্লেখ করে তারা বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের হোটেলগুলো তাদের রুমভাড়া মার্কিন ডলারে নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের ধার্যকৃত মুদ্রা বিনিময় হার পালন করে না।

তারা জানান,এই বাস্তবতায় এক মার্কিন ডলারের দাম যখন ৭৭ টাকা তখন হোটেল ভেদে প্রতি ডলারের বিপরিতে  ৩ থেকে ৬ টাকা লোকসান গুনতে হয়। এক্ষেত্রে হোটেলগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার অনুযায়ী লেনদেন করার জন্য জোর দাবি তাদের।

এসময় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা জানান, আন্তর্জাতিক মানের হোটেলগুলো সাধারণত তাদের অতিথীদের বিদেশ থেকে আমদানিকৃত খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করে থাকে। এক্ষেত্রে এগুলো আমদানিতে ২৫০ থেকে ৩৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয় বিধায় পর্যটকদের কাছ থেকে অনেক বেশি টাকা রাখতে হয়। আর এ কারণে তারা বাংলাদেশের প্রতি অনিহা প্রকাশ করে।

আলোচনায় বাংলাদেশ রিসোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা গ্রামীণ পর্যায়ে রিসোর্ট নির্মাণে ভ্যাট প্রত্যাহার, রিসোর্ট নির্মাণ সামগ্রী আমদানিতে শুল্ক মওকুফ ও রিসোর্ট মালিকদের করমুক্ত রাখার দাবি জানায়।

তাদের দাবির জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেন, আমরা বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প এগিয়ে নিতে আগ্রহী। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের হোটেল তৈরিতে নির্মাণ সামগ্রীর আমদানি শুল্ক মুক্ত করা হয়েছে। পর্যটনের সাথে অনেক কিছু জড়িত। তাই এ খাতকে এগিয়ে নিতে আপনাদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সব কিছুর আগে দেশের রাজস্ব খাতকে দেখতে হবে।

এইউ নয়ন