সাঈদীর আপিলের শুনানি শেষ

0
32

delower_hossainমানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে।মঙ্গলবার আপিলের শুনানির ৪৯তম দিনে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের জবাবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন সাঈদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট এএসএম শাহজাহান। তবে বিচারিক আদালতে দায়ের হওয়া পিরোজপুরের ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা মামলার নথি তলব বা তদন্তের বিষয়ে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক পৃথক আবেদনের বিষয়ে বুধবার আদেশ দেবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর ঘোষিত রায়ের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যে দু’টি হত্যার দায়ে সাঈদীকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে  তার মধ্যে একটি ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা।

আসামিপক্ষ আবেদন জানিয়েছেন, বিচারিক আদালতের ওই ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা মামলার আসামিই ছিলেন না সাঈদী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এ বিষয়ে আসামিপক্ষের জমা দেওয়া মামলার নথি ও ডকুমেন্ট জাল, মিথ্যা এবং মামলার প্রয়োজনে সৃজনকৃত বলে উল্লেখ করে এসব কাগজ বিবেচনায় না নেওয়ার আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে বুধবার আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ।

ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম ১৯৭২ সালে তার স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে পিরোজপুরে একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় তিনি মোট ১৩ জনকে আসামি করেন। আসামির সেই তালিকায় সাঈদীর নাম নেই বলে দাবি করে আসামিপক্ষ মমতাজ বেগমের দায়ের করা সেই মামলার এফআইআর নথির একটি সত্যায়িত কপি ২০১১ সালে ট্রাইব্যুনালে জমা দেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এসব নথি সংগ্রহে পিরোজপুর এবং বরিশাল সফর করেছেন। সফর শেষে গত ৯ এপ্রিল আদালতে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, পিরোজপুর এবং বরিশালের জেলা জজ আদালতে কোথাও এ মামলার কাগজ পাওয়া যায়নি। আসামিপক্ষ মমতাজ বেগমের মামলার নথি মর্মে যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন তা জাল, মিথ্যা এবং মামলার প্রয়োজনে সৃজনকৃত। তাই এ কাগজ বিবেচনায় না নেওয়ার লিখিত আবেদন জানান তিনি। তার আশা শুনানি শেষ হওয়ায় এখন রায়ের জন্য আপিল মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখবেন আপিল বিভাগ।

গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়। প্রথমে শেষ হয় সাঈদীর করা আপিল আবেদনের শুনানি। সাঈদীর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট এএসএম শাহজাহান এতে অংশ নেন। ট্রাইব্যুনালের ১২০ পৃষ্ঠা রায় পড়ে শোনানো শেষে তারা রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের সাক্ষ্য ও জেরা পেপারবুক থেকে উপস্থাপন শেষ করেন গত ২১ জানুয়ারি। এরপর গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অ্যাডভোকেট এএসএম শাহজাহান সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ২০টি অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।  তিনিও সাঈদীর বিরুদ্ধে আনা ২০টি অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

শুনানি শেষ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় বহাল রাখার আরজি জানান।

উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৮ মার্চ সাঈদী ও সরকারপক্ষ পৃথক দু’টি আপিল (আপিল নম্বর: ৩৯ ও ৪০) দাখিল করেন।