শুভ জন্মদিন ভিঞ্চি

0
41

Leonardo-Da-Vinciদ্য লাস্ট সাপার কিংবা মোনালিসার মতো শিল্পকর্মগুলোর জন্যই নয়, প্রযুক্তির আদি উদ্যোক্তাও বলা হয় তাকে। বলা হয় মানব শরীর সম্পর্কে আজকের শল্যচিকিৎসকরা যা জানেন তার অনেকটাই তিনিই উন্মোচন করেছিলেন।

রাতের আঁধারে কবরস্থান থেকে মরদেহ চুরি করে তা ব্যবচ্ছেদ করেছেন, দেখিয়েছেন রক্ত সংবহনের মানচিত্র।

শুধু তাই নয়, মানুষ যখন আকাশে কেবল পাখিকেই উড়তে দেখেছে আর রূপকথার গল্পে পড়েছে দেবদূতদের আকাশচারিতার কথা; তখন তিনি হাল আমলের উড়োজাহাজের নকশা করে করে ফেলেন।

অসাধারণ সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে যিনি ইতালি তথা গোটা ইউরোপের পুনর্জাগরণে অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করেছেন তিন হলেন সেই চুল দাড়িওয়ালা চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি। আজ তার জন্মদিন।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিটির পুরো নাম লেওনার্দো দ্য সের পিয়েরো দ্য ভিঞ্চি। তিনি ছিলেন একাধারে চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, স্থপতি, সঙ্গীতজ্ঞ, সমরযন্ত্রশিল্পী ও বিংশ শতাব্দীর বহু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের জনক। লিওনার্দোর জন্ম হয়েছিল ১৪৫২ সালের ১৫ এপ্রিল ইতালির  তুসকান এর পাহাড়ি এলাকা ভিঞ্চিতে, আর্নো নদীর ভাটি অঞ্চলে।

মোনালিসা চিত্রকর্মটি ছিল অক্লান্ত কর্মসাধনার অধিকারী ভিঞ্চির একটি অসাধারণ আবিষ্কার । চিত্রকলার ইতিহাসে এই চিত্রকর্মটির মতো আর কোনোটি এত আলোচিত ও বিখ্যাত হয়নি। ১৫০৩ থেকে ১৫০৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে একটি পাইন কাঠের টুকরোর ওপর তিনি মোনালিসার এই ছবিটি আঁকেন যা বর্তমানে প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

১৪৭২ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে লিওনার্দো “গিল্ড অব সেন্ট লুক” এর পরিচালক হবার য্যোগ্যতা অর্জন করেন। এটি চিকিৎসক এবং চিত্রকরদের একটি সংঘ। তিনি ১৪৭৮ সালে “চ্যাপেল অব সেন্ট বার্নার্ড” এবং ১৪৮১ সালে ‍‍‌“মস্ক অব সান ডোনাটো এ স্কাপিটো” নামের বিখ্যাত চিত্রকর্ম দুটি একে ব্যাপক সারা ফেলে দেন।

ইতালির রেনেসাঁস বা পুনর্জাগরণের পথিকৃত ছিলেন ভিঞ্চি। রেনেসাঁস বলতে মধ্যযুগের পরে ইতালিতে বিশেষ করে গোটা ইউরোপের  ঐতিহাসিক কিছু সংস্কারকে বোঝানো হয়। এর ব্যাপ্তিকাল ছিল আনুমানিক ১৪শ থেকে ১৬শ শতাব্দী পর্যন্ত।

গির্জা ও রাজপ্রাসাদের দেওয়ালে চিত্রাঙ্কন এবং রাজকীয় ব্যক্তিদের ভাস্কর্য নির্মাণের পাশাপাশি বেসামরিক এবং সামরিক প্রকৌশলী হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন ভিঞ্চি। ক্রমবর্ধমান জ্ঞানের প্রয়োগ, অঙ্গব্যবচ্ছেদবিদ্যা, গণিত ও পদার্থবিদ্যার মতো বিচিত্র সব বিষয়ের ক্ষেত্রেও তিনি অনেক উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দিয়ে গেছেন।

অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী এই গুণী শিল্পী ১৫১৯ সালের ২মে ফ্রান্সের ইন্দ্রে-এট-লোরে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান।

এমআর/টিআর/এআর