চলতি বছর বিশ্ববাণিজ্য ৪.৭ শতাংশ বাড়তে পারে

0
33
container

containerআগের দুই বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে গতিশীল হচ্ছে বিশ্ববাণিজ্য। বাড়ছে আমদানি ও রপ্তানি। বছর শেষে বিশ্বের মোট আমদানি-রপ্তানিতে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এ পূর্বাভাস দিয়েছে।

সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ডব্লিউটিও’র এ পূর্বাভাস প্রকাশিত হয়েছে। শহরটিতে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

বিশ্ব বাণিজ্য গতি ফিরে পেলে বাংলাদেশের মত কিছু স্বল্পোন্নত দেশ লাভবান হবে। উন্নত দেশগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সে সব দেশে রপ্তানি বাড়বে।

চলতি বছরের গোড়ার দিকে সংস্থাটি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। বিশ্ব অর্থনীতির গতিশীলতায় আশাদান বেড়েছে আন্তর্জাতিক ওই বাণিজ্য সংস্থার। তাই কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণও বাড়িয়েছে। সংস্থার পক্ষেপিত প্রবৃদ্ধির হার গত দুই বছরের গড় প্রবৃদ্ধি হারের দ্বিগুণেরও বেশি। ২০১০ ও ২০১৩ সালে বিশ্ববাণিজ্যে গড়ে ২ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও তা গত ২০ বছরের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম। এ সময়ে গড়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ডব্লিউটিও মনে করছে, আগামি বছর (২০১৫) বিশ্ব বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি আবার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে; এমনকি তা ছাড়িয়েও যেতে পারে।

বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি সম্পর্কিত এ আশাবাদের নেপথ্যে আমেরিকা ও ইউরোপের অর্থনীতির গতিশীলতা। ডব্লিউটিও’র প্রতিবেদনটিতে এ বিষয়ে বলা হয়, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষা ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধির তথ্য এ ইঙ্গিত দিচ্ছে আমেরিকা ও ইউরোপ অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠছে। ফলে এ দেশগুলোতে ভোগ ও পণ্য চাহিদা বাড়বে।

সংস্থার মহাসচিব আজেভেদো এক বিবৃতিতে বলেছেন, চলতি বছর বিশ্ববাণিজ্য একটি শক্ত অবস্থানে ফিরে আসবে। আর তার উপর ভর করে আগামি বছর তা আরও এগিয়ে যাবে। তিনি সদস্য দেশগুলোকে দোহা রাউন্ড এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি সফলভাবে শেষ হলে বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে।

তবে আশাবাদের পাশাপাশি শঙ্কার কথাও শুনিয়েছে সংস্থাটি। ডব্লিউটিও’র মতে বিশ্ব অর্থনীতি সম্পর্কিত এ পূর্বাভাসের ভাগ্য নির্ভর করবে ভূ-রাজনৈতিক অবস্থার উপর। বিশেষ করে ইউক্রেন সংকট, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার অস্থিরতার কারণে তেলের দাম বেড়ে গেলে তা বিশ্ববাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।