শিশুদের পদচারনায় মুখরিত জিয়া শিশু পার্ক

0
39
শিশুপার্ক

শিশুপার্কপুরনো বছরের গ্লানীময় দিনগুলোকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে শুরু হল নতুন আরেকটি বছর। বাঙালি জাতীর প্রাণের উৎসব বৈশাখ। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একযোগে নতুন বছরকে বরণ করতে মেতে উঠেছিল আজ উৎসবের আমেজে। চতুর্দিক ছিল সাজ সাজ রব।

সকাল থেকেই বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের উৎসব শুরু হয়েছে। পুরো দেশ জুড়ে উৎসবের আয়োজন হলেও মূলত রাজধানীতেই বৈশাখীর রঙ থাকে বেশি। তবে শিশুদের আনন্দের জন্য সবাই বেচে নেয় শিশু পার্ককে। হাজার হাজার শিশুর পদচারনায় মুখরিত ছিল শিশু পার্ক। পার্কের আশপাশজুড়ে দোকানিরাও নানা রকম খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছে।

সন্ধ্যায় শাহবাগের শিশুপার্কে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। নানা বয়সী মানুষের পদচারণা মুখর ছিল পার্কের ভেতর ও বাইরে। শিশুপার্কের রাইডগুলো চড়ার জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে শিশুরা। প্রচণ্ড গরম আর মানুষের অতিরিক্ত চাপ থাকলেও তাতে শিশুদের মুখচ্ছবিতে ছিল না বিরক্তের কোনো ছাপ। অচেনা এক জন অন্যজনের হাত ধরে দিচ্ছে নাচ।

শিশুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পার্কের বাইরে  হকাররা উড়াচ্ছে পাখি। প্লাষ্টিকের তৈরি এ পাখি শিশুরা সহজে উড়াতে না পারলেও তা নিয়ে চলে তাদের কাড়াকাড়ি। কেউ আবার বাঁশিতে ফু দিচ্ছেন। তাদের এই বিচিত্র দেখে আনন্দ পাচ্ছেন অভিভাবকরাও।

মিরপুর ১ নং থেকে আসা ১০ বছর বয়সী সীমা আক্তার শিশুপার্কে এসেছে ছোট চাচা রীমনের হাত ধরে। আইসক্রিম খেতে খেতে হেসে উঠে সে জানাল, ট্রেনে ওঠার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রেনে না উঠে যাবে না।

বিরক্ত লাগছে কিনা- জানতে চাইলে হাসতে হাসতে বলে, শুধু বিরক্ত নয় কষ্টও লাগছে বেশ। এত মানুষ কোথায় থেকে আসল। এরা কি সবাই গ্রাম থেকে এসেছে প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন তারা। বয়স কম বলেই সীমা এখনও বুঝতে পারেনি ঢাকা শহরে দুই কোটি মানুষ বাস করছে।

তুমি কি কি রাইডে উঠেছ-জানতে চাইলে রাজধানীর মালিবাগ থেকে আসা হৃদয় জানায়, ‘উড়ন্ত বিমান, ‘রোমাঞ্চ চক্র, ঝুলন্ত চেয়ার আর লম্ফঝম্ফ রাইডে চড়েছি। তারপর আরও ঘুরবো। বেড়াবো।’ সন্ধ্যা হয়ে গেছে বাসায় কখন যাবা- জিজ্ঞেস করলে তার সোজা উত্তর-এখনো তো ট্রেনে উঠিনি।

শিশুদের নিয়ে আসা অভিভাবকরা শিশুদের সঙ্গে ঘুরতে ঘুরতে আর তাদের চাহিদা পূরণ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও সন্তানদের হাসিমুখ দেখে যেন একেবারেই ভুলে যান সব কষ্ট।

মোহাম্মদপুর থেকে আসা সাব্বির খান বলেন, সরকারি চাকুরীজীবী। মেয়েকে নিয়া ঘুরার সময় পাই না। তাই আজ ওর সব চাহিদা পূরণ করবো।

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা শিশু-কিশোরদের আনন্দ-উল্লাসে পুরো শিশুপার্ক ও এর আশপাশের পরিবেশ যেন পরিণত হয়েছে রূপকথার রাজ্যে। ভুভুজেলার ভেঁ-ভোঁ শব্দ আর শিশুদের হই-চৈ আনন্দঘন পরিবেশে শিশুপার্ক ছিল ব্যস্ত এক নগরী। দোলনা, ব্যাটারিকারসহ বিভিন্ন রাইডে সারিবদ্ধ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের মধ্যে ছিল না কোন বিরক্তির ছাপ। সবকিছুতেই ছিল বৈশাখের আমেজ।

জেইউ/সাকি