শেষ বিকেলে হাতিরঝিলে মানুষের ঢল

0
37
হাতিরঝিল

Hatirjheelবাঙ্গালির জীবনে উৎসবের রং ছড়িয়ে এলো পয়লা বৈশাখ। যা কিছু অশুভ-অসুন্দর তা পেছনে ফেলে নতুনের বিজয় নিশান উড়িয়ে জাতি বরণ করে নিয়েছে এই দিনটিকে। তাই সারাদেশের মতো রাজধানীর হাতিরঝিলেও ছিল মানুষের উপচে পড়া ভীড়।

পয়লা বৈশাখ সরকারি ছুটির দিন। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত সারা বাংলা আজ  ভাসছে বৈশাখী জোয়ারে। রাজধানীর হাতিরঝিলও এর ব্যতিক্রম নয়। ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশার সব বয়সী মানুষ একত্রিত হয়েছেন এই ঝিলে। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ ছুঁটে এসেছেন দিনটি উদযাপন করতে। সারাদিনের প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে পড়ন্ত বিকেলে একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে হাতিরঝিলের এপার-ওপার সবখানেই ছিল ভ্রমণ পিপাসু মানুষের পদচারণা।

বৈশাখী উৎসবের প্রধান রং হলো লাল-সাদা। আর এই রঙেরই ছড়াছড়ি দেখা গেছে হাতিরঝিলে। নারীদের পরনে ছিল সুতির শাড়ি, হাতে কাঁচের চুরি, খোপায় গোলাপের মালা। পুরুষের পোশাকেও ছিল ভিন্নতা। কেউ পাজামা-পাঞ্জাবী, কেউ ফতুয়া-পেন্ট, আবার কেউ বা পশ্চিমা ধাচের পোষাক পড়ে এখানে এসেছেন প্রিয়জনকে নিয়ে।

শিশুরাও কোন দিক থেকে পিছিয়ে থাকেনি। মাথায় বৈশাখী ব্যান্ড লাগিয়ে, গালে আল্পণা এঁকে নতুন পোষাক পড়ে তারা ঘুরতে এসেছে বাবা মায়ের হাত ধরে।

হাতিরঝিলে ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। লেবুর শরবত, আখের রস, অইসক্রীম, ঠাণ্ডা পানীয়, চটপটি, ফুসকা, বিভিন্ন রকমের আচার, বেলুন, হাতপাঁখা, গৃহস্থালীর প্লাস্টিক সামগ্রীসহ সবই ছিল ফেরিওয়ালাদের কাছে। আল-আমীন নামের একজন শরবত বিক্রেতা বলেন, আমরা গরীব মানুষ, আমাদের কাছে বৈশাখের আলাদা কোন অর্থ নেই। তবে মানুষের ভীড় বেশি বলে আজ  আমাদের বিক্রিও বেশি। তাই খুব ভালো লাগছে।

গাজীপুর থেকে ঘুরতে আসা সরকারি চাকুরীজিবী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সব সময় চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সময়ের অভাবে কোথাও ঘুরতে যেতে পারি না। তাই আজকে পয়লা বৈশাখের ছুটি পাওয়ায় সবাইকে নিয়ে বেড়াতে এসেছি।

সন্ধ্যার দিকে হাতিরঝিলের লাল-নীল বাহারি রঙের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা। সর্বত্র দেখা যায় প্রাণের উচ্ছ্বাস। সেই সাথে স্থানীয় বখাটেদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। এ বিয়য়ে কলেজ পড়ুয়া নাজনীন আক্তার বলেন, নববর্ষ উপলক্ষে হাতিরঝিলে এই প্রথম এসেছি। কিন্তু বখাটেদের অত্যাচারে অস্বস্তি নিয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছি।

নববর্ষের দিনে হাতিরঝিলে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, র‌্যাব ও সাদা পোশাকের পুলিশের সংখ্যা ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোল পুলিশের গুলশান জোনের এসি আমিনুল ইসলাম বলেন, মানুষের নিরাপত্তার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যাবস্থা নিয়েছি। কোন রকম অভিযোগ পেলে আমরা সাথে সাথে তা খতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা নিচ্ছি।

বিগত বছরের সকল অপূর্ণতা আর ব্যার্থতা মুছে ফেলে নতুন সম্ভাবনার আশায় জাতি উদযাপন করছে পয়লা বৈশাখ। তাই বছরের অন্যান্য ছুটির দিনে বন্ধু-বান্ধব, অত্মীয়-স্বজন নিয়ে যেন ঘুরতে পারেন এমনই প্রত্যাশা ছিল হাতিরঝিলে আসা বেশিরভাগ মানুষের কণ্ঠে।

এমআর/সাকি