ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে আরও ঋতুভিত্তিক মেলা আয়োজন করবে সরকার

0
69

Bangla Academ 2ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ঋতুভিত্তিক মেলার আয়োজন করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্য বিপণনের সুযোগ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ শিল্পকে টেকসই খাত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্প ফাইন্ডেশন’ গঠন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সোমবার বিকেলে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণের নজরুল মঞ্চে ‘বৈশাখী মেলা-২০২১’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব রনজিত কুমার বিশ্বাস, শিল্প মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুসেন চন্দ্র দাস, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ও বিসিক পরিচালক নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে একজনকে কারুরত্ম ও ৫ জনকে কারুগৌরব প্রদান করা হয়। কারুরত্ম হিসেবে পুরষ্কার পেয়েছেন মৌলভীবাজারের কারুশিল্পী অনুণ চন্দ্র দাস। আর কারুগৌরব হিসেবে পুরষ্কার পেয়েছেন, বান্দবনের জিং চেওমার বম, মাগুরার সংকর কুমার মালাকাত, পটুয়াখালীর বিশ্বশর পাল, কুষ্টিয়ার মোহাম্মদ পলাশ এবং নারায়নগঞ্জের জয়নাল আবেদিন।

কারুরত্ম প্রাপ্তকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্টও অভিজ্ঞানপত্র প্রদান করা হয়। আর কারুগৌরব প্রাপ্তদের দেওয়া হয় নগদ ৩০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও অভিজ্ঞানপত্র।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বৈশাখী মেলার আয়োজন ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও কুটির শিল্পখাতের উন্নয়নে সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার বড় অংশ। এর মাধ্যমে দেশি পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে আগত ক্রেতারা জানতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি। উদ্যোক্তারা অন্যদের পণ্য দেখে নিজেদের পণ্যের মান উন্নয়নে আরও আগ্রহী হবেন বলে আশা করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, সামগ্রিকভাবে এই মেলা দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এখন বিসিক শুধু বৈশাখী মেলার আয়োজন করে না। ঋতু ভিত্তিক মেলার আয়োজন করে তারা উদ্যেক্তাদের পণ্য বিপণনের ভালো সুযোগ করে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। আর শিল্পের বিকাশের স্বার্থে এ ধরণের উদ্যোগ আরও বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ঋতু ভিত্তিক মেলার আয়োজন করতে হবে। তার পাশাপাশি বৈশাখী মেলাকেও পরিকল্পিতভাবে পণ্য বিপণন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের কাজে লাগাতে হবে। তিনি এই বিষয়ে বাস্তব সম্মত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিসিক পরিচালনা পর্ষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।Amu

আর এর মাধ্যমে তৃণমুল পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তারা নিজেদের পণ্যের উপযুক্ত মূল্য পাবেন বলে মনে করেন তিনি। তাছাড়া তৃণমুল পর্যায়ে শিল্পায়নের উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হওয়াসহ গ্রামভিত্তিক শ্রমঘন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে ওঠবে বলে মনে করেন তিনি।

১০দিন ব্যাপী মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হস্ত, কারুশিল্পী ও উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যে-সামগ্রী নিয়ে প্রায় ১২০টি স্টল বসেছে মেলায়। ১০টি স্টলে কারুশিল্পীগণ তাদের বিভিন্ন পণ্য স্টলেই তৈরি করে তা প্রদর্শন ও বিক্রি করছেন।

মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকছে। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকসঙ্গীত-সহ অন্যান্য গান পরিবেশিত হবে।

আগামি ১০ বৈশাখ পর্যন্ত এই মেলা সকাল ১০ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।