পান্তা-ইলিশে তৃপ্ত হলো নগরবাসী

0
67
panta
পান্তা -ইলিশ। ফাইল ছবি।

pantaদেশজুড়ে নানা আয়োজনে চলছে বাংলা নববর্ষ উদযাপন। সকালের নতুন সূর্য যখন উঁকি মারলো বাংলার পূর্ব দিগন্তে, তখনই বাঙালিরা রমনার বটমূলে বরণ করে নিল নতুন এ বছরকে। আর বাঙালি সংস্কৃতিতে পান্তা-ইলিশ আনে এই উৎসবের পরিপূর্ণতা।

পয়লা বৈশাখে গ্রামের মানুষ ভাতের সাথে পানি মিশিয়ে পান্তা-ইলিশ খায় এমনটি কখনও দেখা যায় না। শহরের যেসব ধনী লোক পয়লা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খায়, তাদের জানা নেই গ্রামের কৃষকের জীবনযাত্রা এবং গ্রামীণ সংস্কৃতি সম্পর্কে।

আজ রমনার বটমূলে সবাই নববর্ষ বরণ করে নিয়ে আড্ডা জমিয়ে খাচ্ছে পান্তা-ইলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁয় বসেছে পান্তা-ইলিশের পসরা। পান্তার ডালি সাজিয়ে বসেছে বিক্রেতারা। আর বাঙালিরা বাঙালিয়ানায় সিক্ত হচ্ছেন এই পান্তা-ইলিশ খেয়ে।

আগেকার দিনে পয়লা বৈশাখের উত্সবে গ্রামের অব্যবস্থাপনা এবং ধনী পরিবারে খাবারের আয়োজনের মধ্যে সকালে নাশতার আয়োজনে থাকতো চিড়া, মুড়ি, খই, লুচি, দই, খেজুর গুড় ইত্যাদি। আর দুপুরের খাবারে থাকত খিচুড়ি এবং বড় কই ভাজা, বড় রুই মাছের পেটি ভাজা, বড় পুঁটি মাছ ভাজা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাজি।

পয়লা বৈশাখ  নিয়ে এখন শহুরে নব্য ধনিক ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের মাতামাতির শেষ নেই। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে আজ শহরের অলিগলি, রাজপথ, পার্ক থেকে শুরু করে অভিজাত হোটেলে বিক্রি হচ্ছে পান্তা-ইলিশ। অভিজাত হোটেলগুলোতে এদিন পান্তা-ইলিশ খাওয়া এখন একশ্রেণির মানুষের বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

আর তখন গরিব মানুষের দু’টাকা দিয়ে একটি ইলিশ মাছ কিনে বিলাসিতা করার সুযোগ ছিল কম। তবে পয়লা বৈশাখে উত্সব হতো—এতে কোনো সন্দেহ নেই। তখন পয়লা বৈশাখে গ্রামে বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসত। মেলায় হাঁড়ি-পাতিল, ছুরি ও দা, বাচ্চাদের খেলনা, ঘুড়ি, বার্ষিক উত্পাদিত ফসল ইত্যাদি বিক্রি হতো।

আকাশে বর্ণিল ঘুড়ি উড়িয়ে মজা করতো এই দিনে। ঘুড়ি কাটাকাটি ছিল উত্সবের প্রধান দিক। আর বাচ্চাদের খেলনা ক্রয়ের মধ্যে ছিল বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পুতুল আল্লাদি। প্রায় সবাই কিন্তু এ পুতুল।

এআর /এআর