বর্ষবরণে অংশ নিলেন বিদেশি বন্ধুরাও

0
73
foreigner

foreignerবাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যমন্ডিত পয়লা বৈশাখকে বরণ করতে বাঙালিদের সাথে একাত্ম হয়ে আনন্দে মেতে উঠেছেন বিদেশি বন্ধুরাও।

সোমবার প্রভাতের প্রথম প্রহর থেকে রমনা, সোহরাওয়ার্দী, চারুকলায় উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে বর্ষবরণের নানা অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমনা বাঙালিরা গানে আর কবিতার ছন্দে, ঢাক ঢোল পিটিয়ে বরণ করে নিচ্ছে নতুন বছরকে। বাঙালিদের সাথে নববর্ষকে বরণ করে নিতে একাত্ম হয়ে বর্ষবরণ করছেন দেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকেরাও।

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে তারাও ছুটে এসেছেন রমনার বটমূলে। উপভোগ করছেন ছায়ানটের বর্ষবরণের নান্দনিক অনুষ্ঠান। নতুন বছরের নতুন দিনে আজ ছেলে-বুড়ো দেশি-বিদেশি সবার পদচারণায় মুখরিত রাজধানীর রাজপথ। এ যেন তিল ঠাঁই আর নাহিরে।

কথা হলো দূতাবাসে কর্মরত অস্ট্রিয়ার নাগরিক স্যামরিনা’র সাথে। চৈনিক স্বামী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে তিনিও বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখ উদযাপন করতে এসেছেন। সকালে তারা বাঙালি বন্ধুদের নিয়ে পান্তা-ইলিশও খেয়েছেন।

স্যামরিনা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আছেন। ছেলে টরটুইন অস্ট্রিয়ায় ও মেয়ে এনিকা এ দেশে জন্মেছে। তাই মেয়ের নামটা বাঙালি নামের মতো করেই রেখেছেন।

গত তিনবছর ধরে বর্ষবরণের উৎসবে আসছেন তিনি। স্বামী চোয়া মেইনল্যান্ড চায়নার নাগরিক হলেও বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি। বাঙালির যেকোনো পালা-পার্বনে তারা অংশ নেন। বছরের এই দিনটিতে স্বামী চোয়াই তাকে ছায়ানটে নিয়ে আসেন।

উৎসব কেমন লাগছে জানতে চাইলে চোয়া বলেন, ‘বাঙালি সংস্কৃতি অনেক সমৃদ্ধ। সংস্কৃতিমনা বাঙালির যেকোনো উৎসবেই তিনি সপরিবারে যোগ দেন।

পরিচয়পর্ব ও আলাপচারিতা যখন শেষ তখন সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে স্পষ্ট ও শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণে চোয়া ও স্যামরিনা বলে উঠল ‘শুভ নববর্ষ’।

জানতে চাইলাম বাংলা কখন কিভাবে শিখেছেন। এবার তিনি উত্তর দিলেন শুদ্ধ বাংলায়। চোয়া জানান, তার মাত্রাতিরিক্ত আগ্রহের কারণে বাঙালি বন্ধুরাই তাকে বাংলা শিখিয়েছেন।

এমআর/এআর