ডাক্তারদের ঘুষ দেওয়ায় চাপের মুখে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন

0
36

glaxoচিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে চাপের মুখে পড়েছে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন। সম্প্রতি পোলান্ডে ওষুধ বিক্রি বাড়াতে কোম্পানিটি ডাক্তারদের ঘুষ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অপরাধমুলক আইনে তদন্তের মুখোমুখী হচ্ছে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন।

সোমবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে মোট ১১ জন ডাক্তার ও ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিটির একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

গ্লাক্সোর একজন সাবেক বিক্রয় কর্মকর্তা জারেক ওয়িজনিশকি  জানান, তাদের কোম্পানির বিরুদ্ধের যে অভিযোগ ওঠেছে, তা সত্য। তাদের ওষুধের বিক্রয় বাড়াতে এবং রোগীদেরকে তাদের ওষুধ কিনতে ডাক্তারদের উৎসাহিত করার জন্য এ অর্থ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন,  ‘এটা একটা সাধারণ সমীকরন যে, আমরা ডাক্তারদের অর্থ কিংবা উপঢৌকন দেয়, তারা আমাদের ওষুধের প্রেসক্রিবশন করেন। তাদের যখন অর্থ দেয় না, তারা তখন প্রেসক্রিব করেন না’।  ওয়িজনিশকি জানান, আমরা কখনও এটা বলি না যে, আমাদের আরও ২০ টি প্রেসক্রিবশন দরকার । সুতরাং ওষুধ লেখেন আর টাকা নিন। বরং আমরা আশা করি, ডাক্তার আমাদের ওষুধ প্রেসক্রিব করবেন।

তিনি বলেন, এটি নি:সন্দেহে ঘুষ। কারণ আমরা রোগীদেরকে ওষুধ কেনাতে ডাক্তারদের সাথে একটি চুক্তিতে লিপ্ত হই। আর ডাক্তাররাও আমাদের কখনও নিরাশ করেন না । বরং কৌশলে লাভসহ ফেরত দেন আমাদের অর্থ’।

তবে কোম্পানিটি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য তারা  আদালতকে সর্বপ্রকার সহায়তা করবে।

 বিবিসির এক সংবাদদাতা জানান, গ্লাক্সোর বিরুদ্ধে অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ঘুষ কেলেঙ্কারি আইনকে লঙ্ঘন করবে। ফলে যুক্তরাজ্যসহ বাইরের দেশগুলোতেও কোম্পানিটির মান ক্ষুন্ন হয়ে তাদের ওষুধ বিক্রি কমে যেতে পারে। এমনকি অনেক দেশে তাদের ওষুধ রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। তাছাড়া আইনানুযায়ী এটা তো অবৈধ বলেও জানান তিনি।

এর আগে একই কারণে চীনে  কোম্পানিটির চার কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ

উল্লেখ্য, চীনসহ প্রায় ৩৮টি বিদেশি কোম্পানি নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ করে আসছে গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন।

এস রহমান/