পূর্ব পুরুষদের পেশা ছাড়তে চান না চুনিয়া পরিবারগুলো

0
34
chun

chunদুঃখ-কষ্ট আর অভাব বারো মাস থাকলেও পূর্ব পুরুষদের পেশা  ছাড়তে চান না দিনাজপুরের ১৫ চুনিয়া পরিবার। তবে এরই মধ্যে বাধ্য হয়ে ফুলবাড়ীর শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুরে ২৫টির মধ্যে ১০টি চুনিয়া পরিবারই ছেড়ে দিয়েছেন এই পেশা।

জানা গেছে, এখনো যারা চুন বিক্রি করছে তাদের পরিবারে তিন বেলা অন্নই ঠিকমতো জোটে না। বরং এই পেশা ধরে রাখতে গিয়ে অনেক চুনিয়া পরিবার এনজিও ঋণের বোঝায় ডুবে যাচ্ছে।

চুনিয়াপাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝিনুকবিহীন পড়ে আছে অধিকাংশ ঝিনুক পোড়ানোর চুলা। মাত্র কয়েক জনের বাড়িতে দেখা মেলে পোড়ানো ঝিনুক খুচিয়ে চুন তৈরির কাজ। বাড়ির পুরুষরা গেছেন ঝিনুক সংগ্রহে আর নারীরা পোড়া ঝিনুক খুচিয়ে তৈরি করছে চুন।

স্থানীয় শ্যামল চন্দ্র দেবনাথ, ধর্ম চন্দ্র দেবনাথ জানান, চুন তৈরি পেশায় বেশি পুঁজি লাগে না। সবমিলিয়ে ৫শ থেকে ৬শ টাকা হলেই এক মণ ঝিনুকের চুন তৈরি করা যায়। কিন্তু চুনটি বাজারজাত করতে বেশি সময় লাগার কারণে পুঁজি থাকে না। ঠিক তখন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসায় লাগাতে হয়।

চুনিয়াপাড়ার গৃহবধূরা জানান, পূর্বে গ্রামের পাশে থাকা ছোট যমুনা ও তিলাই নদী থেকে বিনামূল্যে ঝিনুক পাওয়া যেত। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন বন জঙ্গল থেকে খড়-কুটা ও পাতা কুড়িয়ে ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি করা হতো। এতে আয় ভালো হতো এবং পুঁজিও কম লাগতো। কিন্তু নদীগুলো মরে যাওয়ায় সদর উপজেলাধীন মোহনপুর পূর্ণভবা নদী থেকে ২৮০ টাকা মণ দরে ঝিনুক কিনে আনতে হয়। তাই যাতায়াত, খড়িসহ  ৫শ থেকে ৬শ টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলে চুন বিক্রি করে আয় না হওয়ায় না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয় পরিবার-পরিজনদের নিয়ে। সেই সাথে থাকে এনজিওর ঋনের বোঝা।

কেএফ