মঙ্গলময় বছরের প্রত্যয়ে শেষ হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা

0
114
Mongol Sovajatra 1-1

Mongol Sovajatra 1-1‘জাগ্রত করো উদ্যত করো নির্ভয় করো হে’ এই স্লোগানের মধ্যদিয়ে শেষ হলো বাঙালির প্রাণের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান মঙ্গল শোভাযাত্রা। হাজারও বাঙালি এক হয়ে সুখ-সমৃদ্ধির বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলময় বছরের কামনা করেন তাদের ঐতিহ্যের নানান আয়োজন নিয়ে।

সোমবার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ ও রূপসী বাংলা মোড় ঘুরে টিএসসি হয়ে আবার চারুকলা অনুষদে শেষ হয়। শোভাযাত্রার শুরুতেই শোভাবর্ধন করেন ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী, চারুকলা অনুষদের ডিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

সার্বজনীন এ শোভাযাত্রার নানা শিল্প-কাঠামোয় এবার প্রাধান্য পেয়েছে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধময় বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। সঙ্গে আছে বাঙালির শেকড় সংলগ্ন লোকজ সংস্কৃতির নানা আবহ। এবারের শোভাযাত্রার সর্বাগ্রে ছিল সুখ-সমৃদ্ধির বার্তাবহ ‘মা ও শিশু’ শীর্ষক শিল্প-কাঠামোটি। ১৭ ফুট উচ্চতার এই শিল্পকর্মে মায়ের এক হাতের বন্ধনে বুকে জড়িয়ে ছিল তার শিশুটি, আর অপর হাতে  একটি কলসি। পবিত্রতা ও সরলতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে হরিণ শাবকের কাঠামো। সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে বিশাল একটি মা মাছের পাশে দেখা গেছে সন্তানতুল্য দুটি ছোট মাছকে। একই রকম অর্থ নিয়ে বড় আকারের একটি বিড়ালের মুখে ছিল চিংড়ি মাছ। লোকজ গল্প কিংবা রূপকথার আবহ নিয়ে উদ্ভাসিত হয়ে বাঘের পিঠে চড়ে বসা গাজী। গাঢ় হলুদ রঙের ভেতর ডোরাকাটা কালো রং দিয়ে সাজানো হয়েছে বাঘটিকে। আর গাজীর পোশাকে ছিল নীল, সাদা, হলুদ ও লাল রঙের আবহ। লোকজ সংস্কৃতির নির্যাস নিয়ে কাঠের ফ্রেমের ওপর উপস্থাপিত হয়েছে বিশালাকারের এক শখের হাঁড়ি।

আবহমান গ্রামবাংলার রূপকল্প তুলে ধরতে শোভাযাত্রায় ছিল বড় আকৃতির হাঁস। সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখা গেছে নয়ন জুড়ানো রঙের সম্ভারে গড়া পাখা মেলা ময়ূর। এসবের সঙ্গে লোকজ সংস্কৃতির আরেক স্মারক লক্ষ্মীপেঁচা। লক্ষ্মীপেঁচার পুরো শরীর জুড়ে ছিল বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন শুভ-অশুভ ঘটনার পেপার কাটিং।  এ ছাড়া ছিল মুখোশের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা রাজা-রানী, উজির-নাজির, বাঘ, পেঁচা, টেপা পুতুলসহ নানা আকৃতি ও বর্ণের প্ল্যাকার্ড।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বাংলা বছরের প্রথম দিন পয়লা বৈশাখে প্রতিবারের ন্যায় এবারও এ  মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এই শোভাযাত্রায় চারুকলার শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের, বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার মানুষ নেয়।

এইউ নয়ন/এআর