বর্ষবরণে নগর জুড়ে উৎসবের আমেজ

0
36
Pohela Boishakh 3

Pohela Boishakh 3বাংলা নববর্ষকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে নগর জুড়ে। বাঙালির প্রাণের এই উৎসবের মধ্যদিয়ে একদিনের জন্য হলেও পশ্চিমা সংস্কৃতিকে ভুলে নিজেদের সংস্কৃতি ধারণের চেষ্টার যেন কমতি নেই কারও।

তাই তো বৈশাখের প্রথম দিন পূবাকাশে সূ্র্য উঁকি মারার পরপরই নানা বয়সী মানুষ বাহারি ডিজাইনের পোশাক পরে বেরিয়ে পড়েছেন ঘর থেকে।

দিনের প্রথম প্রহরে দেখা যায় উৎসবে আগত সবাই নববর্ষের দিনে নিজের পোশাকের মধ্যে বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। কারণ শাড়ি, লুঙ্গি, ধুতি, পাজামা কী নাই আজকের উৎসবে?

বৈশাখের প্রথম দিন সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা। রাজধানীর রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উদ্যানের প্রবেশ পথগুলোতে হাজারো মানুষের দীর্ঘ লাইন। এদের মধ্যে নানা কারুকাজে লাল পাড়ের সাদা শাড়ি কিংবা লাল শাড়ি পরে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছেন নানা বয়সী নারীরা। সেই লাইনে ছিল হরেক রঙের পাঞ্জাবি পরা পুরুষরাও। আর শিশুদের বর্ণিল পোশাকতো আছেই। দেখে মনে হয় বিখ্যাত কোনো চিত্রশিল্পী আপন মনে রঙ দিয়ে পুরো এলাকা যেন সাজিয়ে রেখেছেন।

রাজধানীর যেকয়টি স্পটে নববের্ষর দিনে মানুষের ঢল নামে তার মধ্যে অন্যতম রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলা, শিশু পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এছাড়া সবগুলো বিনোদন স্পটেও দিনজুড়ে থাকে মানুষের জটলা। স্পটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ, শিশুসহ সববয়সী মানুষ বাহারি রঙের পোশাকে নিজেকে সাজিয়েছেন আপন মনে। ব্যক্তিগত গাড়ি, মটরসাইকেল তো দূরের কথা, কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রিকশাও প্রবেশ করতে দিচ্ছে না মূল সড়কে। তাতে কী? নতুন পোশাকে বৈশাখের উৎসবে যোগ দিতে এসে কোনো ক্লান্তি নেই কারও।

শিশু পার্কের সামনের আস্তাচলের গেইট দিয়ে রমনার ভেতরে যাওয়ার জন্য নাতনীকে নিয়ে পাজামা আর পাঞ্জাবি পরে লাইনে দাঁড়িয়ে রহমত উল্লাহ। নাতিকেও একই পোশাক পরিয়ে ঘুরতে আসছেন বলে জানালেন। বর্ষবরণ উৎসব নিয়ে জানতে চাইলে অর্থসূচককে বলেন, “এটা বাঙালির প্রাণের উৎসব। সে কারণেই এই উৎসব নতুন পোশাক ছাড়া আনন্দময় হয় না।”

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কথা হয় গোড়ান থেকে আসা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসরাতের সঙ্গে। দশ বন্ধু একই রংয়ের শাড়ি পরে বৈশাখের মেলায় যাচ্ছেন। বললেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিব। মজা করবো।’

সবাই একই রংয়ের শাড়ি পরে কেন? জানতে চাইলে বললেন, “সবার থেকে নিজেদের আলাদা রাখতেই এই চিন্তা। দেখতে দারুণ লাগছে। তাই না?”

জিইউ/এআর