আজ ১৪ এপ্রিল ভৈরবে গণহত্যা দিবস

0
49

voirobআজ ১৪ এপ্রিল ১লা বৈশাখ ভৈরবের গণহত্যা দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে ভৈরবের শিবপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্রের তীর পানাউল্লাহরচর-আলগড়ায় এক মর্মান্তিক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল।

হানাদার বাহিনীর নির্বিচার ব্রাশফায়ারে নিরস্ত্র অসহায় পাঁচশতাধিক নারী-পুরুষ, শিশু মৃত্যুবরণ করেন। হানাদার বাহিনীর ভয়ে নিহতদের স্বজনরা লাশগুলো দাফনও করতে পারেননি সেদিন। পরবর্তীতে পাঁচশতাধিক লাশ ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে গণকবর দেওয়া হয়।

স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ সময়ে দেশের ইতিহাসে অনেক উত্থান-পতন ঘটলেও, ভৈরবের মানুষ ভুলতে পারেনি সেদিনের সেই মর্মান্তিক গণহত্যার দিনটিকে। তাই প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিলকে ভৈরবের মানুষ ”গণহত্যাদিবস” হিসেবে আখ্যা দিয়ে শোক পালন করে। পাকপশুদের হিংস্র থাবায় নির্মমভাবে নিহতদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

ভৈরবে প্রথম হানাদার বাহিনী পা রাখে ১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল। সেদিন ছিল পহেলা বৈশাখ। সারাদেশে যুদ্ধের দামামা বাজলেও, বাণিজ্যনগরী ভৈরবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলছিল ”হালখাতা” উৎসব পালনের প্রস্তুতি। হঠাৎ করে ভৈরবের আকাশে দেখা যায় চারটি জেট বিমান, একাধিক হেলিকপ্টার এবং স্থলপথে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপাড় নরসিংদীর রায়পুরার রামনগর ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে গানশিপ। পাকবাহিনী ওই এলাকা থেকে গানশিপ দিয়ে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে ভৈরব শহরের দিকে অগ্রসর হয়। দুপুরে সামরিক বাহিনীর কয়েকটি হেলিকপ্টার থেকে ভৈরবের মধ্যেরচর নামক এলাকায় ছত্রীসেনা নামানো হয়। তখন পাকসেনা দেখে সাধারণ মানুষ প্রাণভয়ে পালাতে থাকে। মুক্তিপাগল মানুষ যার যা কিছু ছিল তা নিয়ে প্রতিরোধে নামে।

পাকিস্তানি ছত্রীসেনারা শহরে প্রবেশ করার সময় পথিমধ্যে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ করে মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে। অপরদিকে হেলিকপ্টার থেকে গ্রামে নামার পর ছত্রীসেনাদল কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে শহরে প্রবেশ করে। এ সময়  শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহরচর-আলগড়া নামক একটি খেয়াঘাটে প্রাণভয়ে পলায়নপর নিরস্ত্র-নিরপরাধ পাঁচ শতাধিক মানুষকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। পাকবাহিনীর নির্মম শিকার কয়েকশ’ মানুষের তাজা রক্তে সেদিন ব্রহ্মপুত্রের ধূষরজল রক্তিম হয়ে উঠে। হানাদারদের নগ্ন উন্মাদনায় হতাহতদের আর্তচিৎকারে ভৈরবের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। সেদিনের সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শীরা সেই মুহূর্তের দৃশ্য স্মরণ করে আজো শিহরে ওঠেন।

কেএফ