জাল টোকেনে বিআরটিএ’র কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ডাক কর্মকতাদের

0
61
বিআরটিএ

বিআরটিএবাংলাদেশ সড়ক যোগাযোগ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) গাড়ির  লাইসেন্স দিতে ভুয়া ট্যাক্স টোকেনের মাধ্যমে তিন কোটি আত্মসাৎ করেছে মিরপুর উপ-ডাক বিভাগের সাবেক কর্মকর্তারা। বিভিন্ন গাড়ির মালিকদের নিকট থেকে নিয়ে এসব টাকা তারা সরকারি কোষাগারে জমা করার পরিবর্তে আত্মসাৎ করেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে প্রমাণিত হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের করা এক মামলার তদন্ত শেষে এসব প্রমাণ পেয়েছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো.আবু নাসের।  তদন্ত শেষে কমিশনে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন তিনি।

দুদক সূত্র জানায়, ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্তু ১৫ হাজার গাড়ির মালিক পাঁচ হাজার ৭৭৮ টি ট্যাক্স টোকেনের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে বিআরটিএ’র ক্লিয়ারেন্স নেন। কিন্তু মিরপুর ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ির মালিকদের জাল ট্যাক্স-টোকেনের মাধ্যমে তিন কোটি এক লাখ দুই হাজার ১০৫ আদায় করে। অন্যদিকে এ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না করে আত্মসাৎ করেন তারা। বিষয়টি ডাক বিভাগের নজরে আসলে ২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় একটি মামলা করে কর্তৃপক্ষ। এ মামলায় ডাক বিভাগের মিরপুর শাখার পোস্ট মাষ্টারসহ ১৬ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। কিন্তু প্রশাসনের গাফিলতিতে কার্যকর কোন অগ্রগতি না হওয়ায় তা ২০০৮ সালে দুদকে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর দুদক উপ-পরিচালক আবু নাসেরকে তদন্তের দায়িত্ব দিলে দীর্ঘ পাঁচ বছরের তদন্ত শেষে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি। তবে মামলার ১৬ আসামির একজন মৃত্যবরণ করায় বাকী ১৫ জনকে আসামি করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

মামলার এজহার ভুক্ত আসামিরা হলেন- মিরপুর উপ-ডাকঘরের সাবেক পোস্ট মাস্টার হাবিব আবদুর রব, সাবেক পোস্টাল অপারেটর মজিবুর রহুমান, হুমায়ুন খান, সামসুন নাহার, আসাদুজ্জামান, মোশাররফ হোসেন ভুঞা, আবু বকর সিদ্দিক, সৈয়দ আহমেদ, মনিকা সরকার, বিমল চন্দ্র সরকার, সেলিম হোসেন ভূঁইয়া, রুহুল আমিন, আবুল কালাম, আনোয়ার হোসেন, এ কে এম ফজলুল করিম এবং শহিদুল্লাহ।

আর মৃত্যবরণ করায় এজহার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে সাবেক পোস্টাল অপারেটর হুমায়ুন খানকে ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু নাসের বলেন, ডাক বিভাগের এসব কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে গাড়ির মালিকদের নিকট থেকে লাইসেন্স বাবদ এসব টাকা নিয়ে জাল ট্যাক্স টোকেন দিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করে। বিষয়টি তদন্ত শেষে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। দুদকের অনুমোদন পেলে  দন্ডবিধির ৪৬০, ৪৬৪, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০, ৪০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

এইউ নয়ন/সাকি