সিরামিকের মৌলিক কাঁচামালের আমদানি শুল্ক কমানোর দাবি বিসিডব্লিউএমএ’র

0
65

ceramicসিরামিকের মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি করেছে বাংলাদেশ সিরামিক ওয়ারস ম্যানুফ্যাকচার এসোসিয়েশন (বিসিডব্লিউএমএ)। এ ছাড়া দেশীয় সিরামিক টাইলসের ওপর  সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

আসন্ন বাজেট উপলক্ষ্যে প্রাক বাজেট আলোচনায় এনবিআর’য়ের কাছে সম্ভাবনাময় সিরামিক শিল্পকে দেশের অন্যতম রপ্তানি এবং আমদানি বিকল্প খাত হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে একগুছ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।এজন্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে একটি বাজেট প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।

সংগঠনটির বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সিরামিক পণ্যের মূখ্য বা মৌলিক কাঁচামাল বোন এ্যাশের আমদানিশুল্ক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা, এডহেসিভ ও সিল্ক স্ক্রিনের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা।এছাড়া কভার কোটের আমদানি শুল্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার দাবিও জানিয়েছে তারা।

এদিকে, দেশীয় সিরামিক টাইলসের ওপর উৎপাদন পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এর পেছনে তাদের যুক্তি হল- দেশে টাইলস এখন বিলাসী পণ্য হিসাবে বিবেচিত হয় না।তাই দেশে টাইলসের ব্যবহার বেড়েছে। এজন্য এই শুল্ক প্রত্যাহার হলে পণ্যমূল্য কমবে। এতে করে টাইলসের বিক্রয় বেড়ে যাবে। ফলে সরকারের ভ্যাট আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া রাজস্ব ঘাটতি সমন্বয়ে আমদানিকৃত তৈরি পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বিদ্যমান ৬০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৮০শতাংশ নির্ধারণ করা হলে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হলেও সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো ঘাটতি হবে না বলে মনে করছে সংগঠনটি।

বিদেশে তৈরি সিরামিক পণ্য আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বাড়ানোর দাবি করেছে সংগঠনটি। গ্লাস টেবিলওয়্যার আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৮০ শতাংশ, বিদেশি বিলাসদ্রব্য আমদানিতে ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কারোপ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, সিরামিক শিল্পে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। সরকারি কোষাগারে এ খাত থেকে বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করে। আর  আমদানি হ্রাস পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ করছে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সংগঠনটি বলছে, বিগত ৫ বছরে এ খাত উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ২০০ শতাংশ। পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বছরে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা।
এছাড়া, এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে  ৫ লাখের অধিক জনবল নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে মহিলা শ্রমিক রয়েছে শতকরা ৪০ ভাগ।
এইচকেবি/