জবিকে পুরান ঢাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে রূপান্তরিত করা হবে: জবি উপাচার্য

0
34

জবিজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা নিয়ে পুরান ঢাকার পয়লা বৈশাখের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।

শনিবার উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে বাংলা নববর্ষ-১৪২১ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, একসময় বৈশাখের আয়োজন পুরান ঢাকাতেই শুরু হতো। কিন্তু কালক্রমে এখানকার উৎসবগুলো নতুন ঢাকামুখী হয়ে পড়েছে। এই ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ব্যবসায়ীসহ ৪০টির বেশি সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তোলা হবে।

পয়লা বৈশাখের আয়োজন বিষয়ে উপাচার্য  বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে সকাল ৯টায় শুরু হবে। এতে ফাইন আর্টস অ্যান্ড গ্রাফিক্স বিভাগের উদ্যোগে বাঘ ও বকের গল্পকে প্রতিকৃতির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন প্রাণীর মুখোশ থাকবে। দোয়েল, কোয়েল, পেঁচাসহ গ্রাম বাংলার বিভিন্ন পশুপাখির নৈসর্গিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হবে এই মঙ্গল শোভাযাত্রায়।
শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে নর্থব্রুক হল রোড, বাংলাবাজার, ইসলামপুর, বাবুবাজার, নয়াবাজার, রায়সাহেব বাজার, সোহরাওয়ার্দী কলেজ এলাকা ঘুরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবে।
উপাচার্য জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে কাঁঠালতলায় ছায়ানটের অনুকরণে ড্রামা অ্যান্ড মিউজিক বিভাগের উদ্যোগে বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দুপুর ১২টায় পালা গান, বাউল গানের আয়োজন করা হয়েছে।
পয়লা বৈশাখে ইলিশ-পান্তা, পিঠা-পুলি, নানা ধরনের কারুকার্যসহ পুরান ঢাকার ঐতিহ্য খাবার প্রদর্শনীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন (টিএসসি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় স্টল বসানো হবে। ব্যবসায়ীরাসহ সর্বসাধারণের জন্য স্টল উন্মুক্ত থাকবে বলে জবি উপাচার্য জানান।
নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রক্টর বলেন, পুলিশ, এসবি এবং র‌্যাবসহ সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা তৎপর থাকবে। আর বৈশাখের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের জন্য আর টিভি, বাংলাভিশনসহ কয়েকটি চ্যানেল থাকবে।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধক্ষ্য, প্রক্টর, বর্ষবরণ উদযাপন কমটির আহ্বায়কসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এম আই/ এআর