আইএমএফ সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্রকে সময় বেঁধে দিয়েছে জি-২০

0
35

G20 আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সংস্কারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে জি-২০। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই সময় বেঁধে দেওয়া হয়। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের।

উন্নয়নে আর্থিকভাবে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষ ২৯টি দেশের উদ্যোগে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত করা হয় আইএমএফ। সংস্থাটির তহবিলে অর্থ যোগানের অনুপাতে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সংস্থাটির সর্বোচ্চ ভোটাধিকারের মালিক।

এরই প্রেক্ষিতে সংস্থাটির অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো নীতি-নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাতব্বরির অভিযোগ এনে ২০১০ সালে ভোটাধিকার সংস্কারের প্রস্তাব উত্থাপন করে। বিশেষ করে, উদীয়মান অর্থনৈতিক জোট বলে পরিচিত ব্রিকসের পক্ষ থেকে আইএমএফের সংস্কারের জোর দাবি জানানো হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা থেকে বিরত থেকেছে।

তাই ওয়াশিংটনের বৈঠকে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দিল জি-২০। বৈঠক সম্পর্কিত প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সংস্কারে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনাকাঙ্ক্ষির দেরি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে হতাশ করেছে।

এই বৈঠকে ব্রাজিলের অর্থমন্ত্রী গুইদো মান্টেগা বলেন, এই সংস্কারের জন্য চার বছর ধরে অপেক্ষা করছি এবং এটা যথেষ্ট। তাই এই বছরই আমার শেষ সীমা।

অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী জো হকি বলেন, আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রকে এখনই এই সংস্কারে বাধ্য করা হোক। এই সময় ক্ষুদ্ধ সদস্য রাষ্ট্রগুলো সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ব্যর্থ হলে করণীয় নির্ধারণে আইএমএফকে চাপ দেওয়া হবে বলে হুমকি প্রদান করে।

বৈঠকে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যাক লুই জানান, সংস্কারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে মার্কিন সরকার সবসময় প্রস্তুত। এই সময় তিনি জানান, প্রস্তাবিত সংস্কার অনুমোদন লাভের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে ওবামা সরকার।

এছাড়াও বৈঠকে ইউক্রেন সমস্যাসহ বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এসময় জার্মানির পক্ষ থেকে ইউক্রেন সমস্যার সমাধানে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, জি-২০ মূলত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ১৯ টি দেশের অর্থনৈতিক জোট। এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোট, কেননা সদস্য দেশগুলোর অর্থনীতি সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৮৫ শতাংশ।