নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে রমনা বটমূল

0
43

 ramna_botomulআসছে পহেলা বৈশাখ। নতুন বর্ষকে বরণ করে নিতে সারাদেশের মতো তৈরি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রমনা বটমূল। সকল ভেদাভেদ ভূলে গিয়ে এই দিনটি উদযাপন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গ্রাম-বাংলা থেকে শুরু করে শহরের ধনী-গরীব সবাই।সারা দেশের মতো তাই রাজধানীতেও চলছে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি।

অন্যান্য বছরের মতো এবারও  সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের উদ্যোগে রমনা বটমূলে নির্মিত হচ্ছে বৈশাখী মঞ্চ।পার্কের দেয়ালে দেয়ালে আকা হচ্ছে নানা রঙের আল্পণা ও চিত্রকর্ম । তৈরি করা হচ্ছে বাশ, বেত ও কাঠের তৈরি বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও ব্যস্ত শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতিতে।

রমনা বটমূলে বৈশাখী অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইন শৃংখলা বাহিনী সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, অনুষ্ঠানস্থল ও এর আশপাশের এলাকার মানুষের নিরাপত্তায় ১১ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, ডিবি,এনএসআই, ডিজিএফআইসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও মাঠে থাকবেন।

বৈশাখের প্রথম প্রহরে সকাল সোয়া ছয়টায় অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে ছায়ানটের শিল্পীদের অংশগ্রহণে শুরু হবে সঙ্গীতানুষ্ঠান। বেলা সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিল্পীরা গান,আবৃত্তি পাঠের মাধ্যমে মাতিয়ে রাখবেন দর্শনার্থীদের। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে আলাদাভাবে নির্মিত হচ্ছে অরো একটি মঞ্চ। ছায়ানটের অনুষ্ঠান শেষ হবার পর শুরু হবে এই মঞ্চের সঙ্গীতানুষ্ঠান। অতিথি শিল্পীদের অংশগ্রহনে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই অনুষ্ঠান। গান,আবৃত্তি-পাঠের পাশাপাশি আরো থাকছে পান্তা, ইলিশসহ দেশীয় খাবারের নানান আয়োজন।

ছায়ানটের নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিক বেলাল বলেন, ছায়ানটের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এবারের বৈশাখী অনুষ্ঠান হবে অনেক জমকালো।মূল মঞ্চে ছায়ানটের শিল্পীদের সঙ্গে অতিথি শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।দর্শকের উপস্থিতি হবে অন্যন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশী। পাশাপাশি থাকছে পান্তা, ইলিশ সহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী রকমারি খাবারের সব আয়োজন।

এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অন্যান্যবারের তুলনায় অনেক শক্তিশালী বলে জানিয়েছেন মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের এডিসি আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা মাথায় রেখে পুরো এলাকাকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হবে। অনুষ্ঠানস্থল ও এর আশপাশের এলাকার নিরাপত্তায় ১১ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠানে আসা দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য এখানে একটি অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে জরুরী চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া কারো কোন কিছু হারানো গেলে লষ্ট ও ফাউন্ড সেন্টারের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করা হবে।১১২ টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করা হবে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে র‌্যাবের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোনো কিছু ঘটার তথ্য পাইনি।তাছাড়া রমনা পার্কসহ আশপাশের এলাকায় র‌্যাবের পাচটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসানো হয়েছে যাতে করে কোন কিছু ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।